Sunday , September 24 2017
হোম / উপ-সম্পাদকীয় / সুন্দরবনে আগুন

সুন্দরবনে আগুন

খায়রুল কবীর

বাংলায় সুন্দরবন-এর আক্ষরিক অর্থ সুন্দর জঙ্গল বা সুন্দর বনভূমি। সুন্দরী গাছ থেকে সুন্দরবনের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে, যা সেখানে প্রচুর জন্মায়। অন্যান্য সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এরকম হতে পারে যে, এর নামকরণ হয়তো হয়েছে ‘সমুদ্র বন’ বা ‘চন্দ্র-বান্ধে (বাঁধে)’ (প্রাচীন আদিবাসী) থেকে। তবে সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয় যে সুন্দরী গাছ থেকেই সুন্দরবনের নামকরণ হয়েছে।

সুন্দরবনের ইতিহাস : মোঘল আমলে (১২০৩-১৫৩৮) স্থানীয় এক রাজা পুরো সুন্দরবনের ইজারা নেন। ঐতিহাসিক আইনী পরিবর্তন গুলোয় কাঙ্খিত যেসব মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে বিশ্বের প্রথম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে স্বীকৃতি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক তত্ত্বাবধানের অধীনে আসা। ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক মোঘল স¤্রাট দ্বিতীয় আলমগীর এর কাছ থেকে স্বত্বাধিকার পাওয়ার পরপরই সুন্দরবন এলাকার মানচিত্র তৈরি করা হয়।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে সুন্দরবনের আয়তন বর্তমানের প্রায় দ্বিগুণ ছিল। বনের উপর মানুষের অধিক চাপ ক্রমান্বয়ে এর আয়তন সংকুচিত করেছে। ১৮২৮ সালে বৃটিশ সরকার সুন্দরবনের স্বত্ত্বাধীকার অর্জন করে। এল. টি হজেয ১৮২৯ সালে সুন্দরবনের প্রথম জরীপে কাজ পরিচালনা করেন।
১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ভারতের তৎকালীন বাংলা প্রদেশে বন বিভাগ স্থাপনের পর বনাঞ্চলটি সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আসে। সুন্দরবনের উপর প্রথম বন ব্যবস্থাপনা বিভাগের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৯ সালে। ১৮৭৮ সালে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয় এবং ১৮৭৯ সালে সমগ্র সুন্দরবনের দায় দায়িত্ব বন বিভাগের উপর ন্যস্ত করা হয়। সুন্দরবনের প্রথম বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নাম ছিল এম. ইউ. গ্রীন। তিনি ১৮৮৪ সালে সুন্দরবনের বিভাগী বন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। সুন্দরবনের জন্য ১৮৯৩-৯৮ সময়কালে প্রথম বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণিত হয়।

১৯১১ সালে সুন্দরবনকে ট্র্যাক্ট আফ ওয়াস্ট ল্যান্ড হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। এর আগে কখনোই জরিপ করা হয়নি এবং আর  শুমারীর অধীনেও আসেনি। তখন হুগলী নদীর মোহনা থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ১৬৫ মাইল (২৬৬ কি.মি.) এলাকা জুড়ে এর সীমানা নির্ধারিত হয়। একই সাথে চব্বিশ পরগনা , খুলনা ও বাকেরগঞ্জ এই তিনটি জেলা অনুযায়ী এর আন্তঃসীমা নির্ধারণ করা হয়। জলাধারসহ পুরো এলাকার আয়তন হিসাব করা হয় ৬,৫২৬ বর্গমাইল (১৬,৯০২ কি.মি)। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে পড়ে। যা বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় ৪.২% এবং সমগ্র বনভূমির প্রায় ৪৪%।

Upo-sompadokio-3

১৯৬৫ সালের বন আইন (ধারা ৮) মোতাবেক, সুন্দরবনের একটি বড় অংশকে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয় ১৮৭৫-৭৬ সালে। পরবর্তী বছরের মধ্যেই বাকি অংশও সংরক্ষিত বনভূমির স্বীকৃতি পায়। এর ফলে দূরবর্তী বেসামরিক জেলা প্রশাসনের কর্তৃত্ব থেকে তা চলে যায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে।

সুন্দরবন বঙ্গোপসাগর উপকুলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। এই অপরূপ বনভূমি খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত। সমুদ্র উপকুলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখ- বনভূমি। আয়তন    ১,৩৯,৫০০ হেক্টর (৩,৪৫,০০০ একর)। সুন্দরবন ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

মোট বনভূমির ৩১.১ শতাংশ, অর্থাৎ ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা, খাল-বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল। এখানে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। জরিপ মোতাবেক ৫০০ বাঘ ও ৩০,০০০ চিত্রা হরিণ রয়েছে এখন সুন্দরবন এলাকায়। ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
সুন্দরবনে আগুন লাগার প্রসঙ্গে :  গত ১৩ এপ্রিল বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী টহল ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। ফায়ার ব্রিগেড, বনকর্মী ও অন্যান্যদের ১২ ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ১০ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। অগ্নিকা-ে বনাঞ্চলের বেশ কিছু ক্ষতি হয়। আমরা যারা ওই অঞ্চলে বসবাস করি না, তারা এ বিষয় গুলো জানতে পারি গণমাধ্যমের খবরের মাধ্যমে। কারণ এ মিডিয়ার যুগে কোন কিছু আর লুকানোর সুযোগ নাই। গত ১৫ বছরে ২২ বার ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বা বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

বরাবরের মত এবারও সুন্দরবন বিভাগ বলছেন, ব্যক্তি স্বার্থে সুন্দরবনে আগুন লাগানো হয়েছে এবং এমন অভিযোগ এনে ৬ জন অপরাধীর নাম উল্লেখ করে বন আইনে ১৭ এপ্রিল রবিবার বাগেরহাট আদালতে মামলা দায়ের করেন ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ। ১৯২৭ সালের বন আইনের ২৬ এর ১ক (গ) ধারায় ওই মামলাটি দায়ের করা হয়। আগুনে সুন্দরবনের ৮ দশমিক ৫৫ একর বনাঞ্চল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আরো ৬৬ একর বনাঞ্চলসহ জীববৈচিত্রের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির জিপিএস ডিভাইসের মাধ্যমে সুন্দরবন বিভাগ পুড়ে যাওয়া বনাঞ্চলের এই হিসাব বের করেছে। জানা যায়,ওই ঘটনার মাত্র ১৭ দিন আগে নাংলি ক্যাম্প এলাকায় আগুনে পুড়ে যায় প্রায় এক একর বনভূমি।

অপরাধীরা সাধারণত বর্ষা মৌসুমে ‘কথিত লীজ’ নেয়া সুন্দরবনের বিলে মাছ ধরার সুবিধার্থে ওই এলাকায় পরিকল্পিত ভাবে আগুন দেয়। জানা যায়, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে তারা সবাই বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা। বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার সুবিধার্থেই নিজেরা লাভবার হতে পরিকল্পিত ভাবে সুন্দরবনে আগুন দেয় তারা। মামলার প্রধান আসামি শাহজাহন শিকারীর বাড়িও সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটে শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের ভোলা নদীর পাড়ে।

আগুনের ঘটনা তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সহকারী বন সংরক্ষককেও এই তদন্ত কমিটির প্রধান করায় অনেকে বলছেন শস্য মধ্যে ভীত বেরিয়ে আসবে। বিষয়টা এমন যে,  কোন এক এলাকায় একটি বাড়িতে চোর টুকেছে। অন্ধকার রাতে গৃহকর্তা টের পেয়ে চোর চোর বলে চিৎকার করছেন। আসে-পাশের বাড়ির লোক জন বলছে কই চোর, কই  চোর, কেউ বলছে এদিকে, কেউ বলছে ওই দিকে। সবাই এদিক ওদিক খুঁজছে। তখন চোর আড়াল থেকে বেড় হয়ে এসে বলছে ওই দিকে মাঠের দিকে কে যেন দৌড়িয়ে গেল। সেই বুঝি চোর হবে। কিন্তু তিনিই যে চোর ওই গ্রামের লোক নাকি কেউ তা বুঝতে পারল না ।

আমরা কমবেশি সবাই জানি, কতিপয় অসাধু মৎস্য শিকারি চক্র প্রতিবছর বনে আগুন লাগায়। শুষ্ক মৌসুমে তারা আগুন লাগিয়ে বন পরিষ্কার করে মাছের বিল তৈরী করে যেন, বর্ষা এলেই মাছ ধরাতে পারে। অনেকে বলছেন, বন কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই চক্রের কাছে মৌসুম ভিত্তিক অলিখিত ইজারা (লিজ) দেয় ওই বিলগুলো। প্রতি মৌসুমে লাখ লাখ টাকা আয় করে নিচ্ছে ওই অসাধু কর্মকর্তারা। সরকারের ঘরে একটি টাকাও রাজস্ব জমা না দিয়ে বরং নিজেদের পকেট ভারি করে। এ বিষয় গুলো অনেক সময় গণমাধ্যমের কাছে গোপন রাখা হয়। আবার এমনটি শোনা যাচ্ছে, চুরি করে গাছ বিক্রি করা হয়। তা ঢাকতেই নাকি এমন নাটকীয় আগ্নিকা-।

এবার আপনাদের নতুন ও অভিনব তথ্য দেই, শিং-মাগুরের খাবার হিসেবে ছাই উৎপাদনের জন্যই দফায় দফায় না কি সুন্দরবনে আগুন লাগানো হয়। ১৮ মে বুধবার  জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এ ছাই সুন্দরবনের শিং ও মাগুড় মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’
তিনি আরোও বলেন, ‘সুন্দরবনে চার দফায় অগ্নিকা- ঘটেছে, যা অস্বাভাবিক। গত ১৫ বছরে ২২ বার হলেও ২০১৬ সালের প্রথম চার মাসেই ৪ দফায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।’

তিনি আরোও সভাপতি বলেন, ‘পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির ২২তম বৈঠকে সুন্দরবনে আগুন লাগার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন সংরক্ষকের কাছে জানতে চেয়েছি। বন সংরক্ষক বলেছেন, ৪টি অগ্নিকা-ের মধ্যে দুটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে, অন্যগুলো মাছ ধরার সময় জেলেদের মাধ্যমে লেগেছে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সুন্দরবনের ভেতরে খুব স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাগুর ও শিং মাছের চাষ করেন। এই ছাই মাগুর ও শিং মাসের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর এ কারণেই পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল সুন্দরবন ধ্বংস করে আধিপত্য বিস্তার লাভ করতে চাচ্ছে। ২৮ মার্চ থেকে ২৭ এপ্রিল এই একমাসের ব্যবধানে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবনে ৪ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট অগ্নিকা-ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। এ ঘটনার প্রতিবাদে সারা দেশে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুন্দরবন বিধ্বংসী এমন অমানবিক কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে দ্রুত যথোচিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আমাদের অনেকের মনে আছে বনের রাজা খ্যাত সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গনির কথা, ২০০৭ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওসমান গনির উত্তরার সরকারি বাসভবনে অভিযান চালিয়ে চালের ড্রাম, বালিশ ও তোশকের ভেতর থেকে এক কোটি ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করে। তারা ৪১ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্রের সন্ধানও পায়। এরপরই ওসমান গনিকে গ্রেফতার করা হয়। একটি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার লকার থেকে ২৯০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ২০ ভরি অলংকারের বৈধ কাগজপত্র ছিল। তাঁর জ্ঞাত আয়বহিভূর্ত সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৪ টাকা।

২০০৭ সালের ২৬ জুলাই দুদক ওসমান গনি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে উত্তরা থানায় মামলা করে। ২০০৮ সালের ৫ জুন আদালত ওসমান গনিকে ১২ বছর ও তাঁর স্ত্রী মোহসিনারা গনিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত ওসমান গনির নামে থাকা এক কোটি ৮০ লাখ ও স্ত্রীর নামে থাকা দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ২৭০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেন। যখন সুন্দরবন আগুনে পুড়ে তখন মনে হয় বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বুকের জমিন পুড়ে। এমন অনেক বনের রাজা আছে, যাদের কোন খবর আমরা জানি না। কাজেই এমন একজন সুন্দর মনের বনরক্ষক দিন যে বাঁচাতে পারবে আমাদের সুন্দরবনকে।

লেখক : সংবাদকর্মী ও আইনজীবী ।

Check Also

ওরা আর হাসবে না

অনলাইন ডেস্ক : সেনারা বোমা মেরে বাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে। বোমা মারা আগেই আমরা বাড়ি থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *