Sunday , September 24 2017
হোম / আন্তর্জাতিক / হিলারির বিরুদ্ধে ইমেইল ব্যবহারে নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ

হিলারির বিরুদ্ধে ইমেইল ব্যবহারে নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ব্যক্তিগত ইমেইল আদান প্রদানে পররাষ্ট্র দফতরের নীতিমালা মানেননি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডেমোক্রেট দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন। ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে ইমেইল আদান প্রদান করা এবং এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের অবহিত না করার মধ্য দিয়ে পররাষ্ট্র দফতরের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে উপস্থাপিত পররাষ্ট্র দফতরের মহাপরিদর্শক স্টিভ লিনিকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম এরই মধ্যে তা হাতে পাওয়ার দাবি করেছে। ১৯৯৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পররাষ্ট্র দফতরের আইনি রেকর্ড ও নীতিমালা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

hillary-clinton_3

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি তৈরির ক্ষেত্রে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের হয়ে প্রার্থিতার দৌড়ে এগিয়ে থাকা হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইমেইল আদান প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান প্রদান করা ইমেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক অতি পোপনীয় বিষয়ের উল্লেখ ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

দেশটিতে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতার মনোনয়ন চাওয়ার পরে হিলারির ইমেইল ইস্যু জোরালো হয়ে ওঠে। বিরোধী রিপাবলিকানদের অভিযোগ, অনিরাপদ সিস্টেম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

151013212737-hillary-clinton-democratic-debate-putin-answer-large-169

তবে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও হিলারির দাবি, তিনি ভুল কিছু করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিলারি ক্লিনটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিকরা খুব ঢিলেঢালাভাবে তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করেছেন এবং নতুন নতুন সাইবার নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির ব্যাপারে তারা খুব একটা তৎপর ছিলেন না।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব শেষ হওয়ার সময় হিলারিকে অন্ততপক্ষে তার সব ইমেইল পররাষ্ট্র দফতরকে বুঝিয়ে দিতে হতো। যেহেতু তিনি এই কাজটি করেননি সেই ক্ষেত্রে দেশটির ফেডারেল রেকর্ডস অ্যাক্ট এর আওতায় পররাষ্ট্র দফতরের যে নীতিমালা রয়েছে তা তিনি মানেননি বলা যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড বা অতি গোপন তথ্য আদান প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ইমেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে থাকে মার্কিন সরকার।

2

আর সেই কারণে হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে ইমেইল আদান প্রদানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা সেই ব্যাপারে তদন্ত চালাচ্ছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

গত ২৯ জানুয়ারি সংস্থাটির অনুরোধে হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত ইমেইল একাউন্টের ২২টির বেশি ইমেইলকে অতি গোপনীয় বলে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। হিলারির অন্য হাজার হাজার ইমেইলের মতো করে এই ২২টি ইমেইল প্রকাশ করা হবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

Check Also

মিয়ানমারের রাখাইনে চীনের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অর্থনৈতিক স্বার্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পশ্চিমে, যেখান থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে দেশটির সেনাবাহিনী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *