Friday , September 22 2017
হোম / উপ-সম্পাদকীয় / আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ৫৪ ধারার রায় বাস্তবায়ন জরুরি

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ৫৪ ধারার রায় বাস্তবায়ন জরুরি

আব্দুল আউয়াল
Upo-sompadokio
অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরাধীদের রুখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আইনের ফাঁকফোকরে নাগরিকের অধিকার হরণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ থাকলে তাও বন্ধ করা অতীব জরুরি। কারণ পুলিশ সম্পর্কে জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বর্তমানে প্রায় তলানিতে। নিঃসন্দেহে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরেক ধাপ এগুলো বাংলাদেশ। একটি সভ্য রাষ্ট্রের সরকারের কাজ হওয়া উচিত দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিতাবি কথা এটি। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ ও প্রতিপালন চোখে পড়ে না। কিন্তু এবার হয়তো আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সরকার ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারা সংশোধনের নির্দেশনা সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায় অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করবে। কারণ বিগত সময়ে এ নিয়ে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের অন্ত ছিল না। এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে যে, শুধু সন্দেহ থেকে মানুষকে আটক করে নিয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে, গুম করা হয়েছে। আবার কখনো কখনো এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে হয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারকে।
এ ক্ষেত্রে বিচারের বাণী শুধু নীরবে নিভৃতে কেঁদেছে। প্রতিকার মেলেনি কোথাও। এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার, যে প্রতিটি মানুষ আইনের দৃষ্টিতে যেমন সমান, তেমনি অপরাধী, নিরপরাধী, ধনী, গরিব নির্বিশেষে সবার ক্ষেত্রে আইনের সঠিক ও সমান প্রয়োগ অপরিহার্য। অপরাধী হলে যেমন অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান রয়েছে, তেমনি সাধারণ ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধান অনুসরণ এবং তাদের গ্রেফতারের কারণ, কারা গ্রেফতার করলো, কেন করলো তাও ওই ব্যক্তিসহ তার আত্মীয়, পরিজনকে অবহিত করা প্রয়োজন। কিন্তু বিগত সময়ে এমনটা কখনো হতে দেখা যায়নি। আর এ সুবাধে অনেক সময় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তির পূর্বশত্রæতা, অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলে কাউকে সাদা পোশাকে রাস্তা বা বাসা-বাড়ি থেকে তুলে নিলে তাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামেই চালিয়ে দেয়া হয়েছে। অতীতে এ ধরনের ঘটনাও পুলিশ উদ্ঘাটন করেছে। কাজে সে ক্ষেত্রে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজেদের স্বচ্ছতার স্বার্থে অন্তত বিতর্কিত ও মানবাধিকার পরিপন্থী ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা এবং রিমান্ডে নেয়ার ১৬৭ ধারা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকবেন।
এমনি অবস্থায় মৌলিক অধিকার পরিপন্থী ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও রিমান্ড সংক্রান্ত ১৬৭ ধারা সংশোধনে আজ থেকে প্রায় ১৩ বছর আগে দেয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আবেদন সম্প্রতি খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের ওই রায়ে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রচলিত বিধান সংশোধন করতে ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জের মরমি কবি, গবেষক ইবনে সালেহ মুনতাসির রচিত সুশাসনের অভিবাক শীর্ষক লিরিকটি অত্যন্ত যৌক্তিক বলে মনে হয়েছে।
তার লিরিকটি হুবহু তুলে ধরা হলে- অরুনোদয়ের তরুণ দল বাহুতে আছে অনেক বল/গণতন্ত্র স্বাধীনতা সুশাসন মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার ভরসাস্থল/ সংবিধান সুপ্রিম আইন, সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন মহান/ আছে সংবিধানের সার্বভৌমত্ব সুপ্রিম কোর্টের শ্রেষ্ঠত্ব/ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যুগান্তকারী জনগণের ইচ্ছার পরম প্রতিফলনকারী/ সুশাসনের জয় মানবাধিকারের জয় জনগণের জয় বিনাপরোয়ানায় গ্রেফতার হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসার/ সুপ্রিম আদালতের রায়ে বিজয় আইনের বিজয় সভ্যতার/ জনগণের মহামুক্তির মহাসনদ জনতার শ্লোক/ গণতন্ত্র সুশাসন স্বাধীনতা মৌলিক অধিকারের মাইলফলক ইবনে সালেহ মুনতারিস বলেন, স্বৈরাচার স্বৈরশাসন দুঃশাসনের হলো চির অবসান/ সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়ে হলো জনগণ ক্ষমতাবান/ জনগণের অভিপ্রায় ইচ্ছা আস্থা বিশ্বাসের জয়ের রায়/ ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্ষমতার সুবিধাতন্তের চির পরাজয় সাদা পোশাকে গ্রেফতার আতঙ্কের পরাজয়/ জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক জনগণের হাতে হস্তান্তর/ নৈরাজ্য স্বেচ্ছাচারিতা ক্ষমতার অবৈধ প্রয়োগের প্রকোপের নিস্তার/ জনবান্ধব জলমুখী গণমুখী গণমানুষের জয় জয় মানুষের বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার আর রিমান্ড নয়/ বিনাবিচারে দেশের মানুষ হত্যা আর নয়/ গুম খুন ক্রসফায়ার অপহরণ নিপীড়ন যেন বন্ধ হয়/ মৌলিক মানবাধিকার যেন আর ভ‚লুণ্ঠিত না হয় স্যালুট সুপ্রিম কোর্ট জনগণের রক্ষক/ সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক অভিভাবক/ নাগরিক অধিকার রক্ষায় যেন সিংহশাবক/ গণতন্ত্র স্বাধীনতা স্বচ্ছতার জবাব/ স্বপ্নের রাজকুমাররা সূর্য সন্তানের মর্যাদায় ভ‚ষিত/ এ মাটির সন্তান তোমরা রেখেছ জন্মভ‚মি মাতৃভ‚মির মান/ বাংলাদেশের সুশাসনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হবে তোমাদের নাম। ঠিক এই লিরিকের যৌক্তিকতা খুঁজে পাই এ রায়ে। কারণ এই বিতর্কিত ধারাসমূহ সংশোধনের আগে এ ক্ষেত্রে কয়েক দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে সরকারকে বলা হয়েছিল।
যার মধ্যে রয়েছে- ডিটেনশন (আটকাদেশ) দেয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে না। কাউকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে। গ্রেফতারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে কারণ জানাতে হবে। ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের ভেতরে কাচ দিয়ে নির্মিত বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকট আত্মীয় থাকতে পারবেন। জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে প্রভৃতি। একই সঙ্গে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখবে। এটা সত্য যে, প্রতিটি সভ্য সমাজে মানুষের নিরাপত্তা প্রদান, কথা বলার অধিকার প্রভৃতির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভ‚মিকা হওয়া উচিত পজিটিভ। বাংলাদেশের মতো গণতন্ত্রকামী রাষ্ট্রে এখনো তা সেভাবে প্রতিপালন হচ্ছে না। তবুও মানুষের মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এগিয়ে চলা খুব একটা নেগেটিভ দেখার অবকাশ কম। এ রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার। আপিল আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় ওই নির্দেশনাগুলো মেনে চলার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে ৫৪ ধারার অপব্যবহার বিশেষ করে সাদা পোশাকে গ্রেফতার, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের কালো অধ্যায়ের অবসান হবে বলে আশা করা যায়।
উচ্চ আদালতের এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে এও বলতে চাই বিজ্ঞ আদালত, সম্মানিত বিচারকরা, আইনজীবীমহল সবাই এ দেশের মাটি আর মায়ের সন্তান। তারা সময়ের প্রয়োজনে, বাস্তবতার নিরিখে এবং মানবাধিকারের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এনে যে রায় দিলেন তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। আর সরকারকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভ‚মিকা রাখতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টমহলকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের সদস্য হিসেবে বিষয়টি আমাদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করবে।
১৯৭০ সালে মালয়েশিয়া এই আইনের সংশোধনী আনে আর মালয়েশিয়াকে অনুসরণ করে ভারতও তাদের সিআরপিসি সংশোধন করেছে। এখন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ এটি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। রায়ের বিবরণ নিয়ে গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, পুলিশ এখন থেকে কাউকে গ্রেফতার করতে চাইলে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। এ ছাড়া তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের কারণও জানাতে হবে। আর কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের অভ্যন্তরে বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। বলা বাহুল্য যে, আদালতের এসব নির্দেশনা মানবাধিকার রক্ষার সহায়ক উৎস। কারণ ৫৪ ধারার অপপ্রয়োগের কারণে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘিœত হয়।
সিআরপির ৫৪ ধারা ছিল এক মূর্তিমান আতঙ্ক- ধারাটির অপপ্রয়োগের কারণেই এমন আশঙ্কার কথা বহুবারই বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। ৫৪ ধারা অনুযায়ী যে কোন ব্যক্তিকে যে কোনো সময় গ্রেফতারের ক্ষমতা ছিল পুলিশের। বিভিন্ন সময়ের খবর অনুযায়ী, দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এ ধারাটির অপপ্রয়োগের শিকার হয়েছেন। ধারাটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলে আসছে। আবার ১৬৭ ধারা অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন এবং জবানবন্দি আদায়ের ঘটনাও কম নয়। জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া অনেক তথ্যই পরে গ্রেফতারকৃতরা আদালতে অস্বীকার করেছেন।
প্রসঙ্গত ১৯৯৮ সালের ২৩ জুলাই ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শামীম রেজা রুবেলকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২৪ জুলাই মিন্টো রোডের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে মারা যান রুবেল। এ ঘটনায় রুবেলের বাবার দায়ের করা মামলায় রুবেলকে গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেয় আদালত। সে সময়ের সরকার রুবেল হত্যা তদন্তের জন্য সরকার গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধনের পক্ষে কয়েকটি সুপারিশ করে। সেসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (বøাস্ট) হাইকোর্টে একটি রিট করে। ২০০২ সালের ২৯ নভেম্বর আদালত সরকারের প্রতি রুল জারি করেন। এরপর রুলের চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট রায় দেয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রচলিত বিধান সংশোধন করতে ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। আর ধারা সংশোধনের আগে এ ক্ষেত্রে কয়েক দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে সরকারকে বলা হয়, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি এ রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে সরকারের আপিল আবেদনের চ‚ড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো। আপিল আবেদন খারিজ করে আদালত বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ে আরো কিছু গাইডলাইন দিয়ে দেয়া হবে। আদালত বলেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও ১৬৭ ধারার কিছু বিষয় দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া এসব ধারার অপব্যবহারের দৃষ্টান্তও দিন দিন বেড়েই চলেছে। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন, সাদা পোশাকের পুলিশ পরিচয়ধারী দুর্বৃত্তদের শিকার হতে হচ্ছে নাগরিকদের। দেশে ক্রমবর্ধিষ্ণু গুম, হত্যা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের মতো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একশ্রেণীর সদস্যের প্রতি অভিযোগের আঙুল উঠছে। এরকম একটি পরিস্থিতিতে আপিল বিভাগের এ রায়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, সরকার পক্ষ থেকে এই রায়ের কার্যকরিতা সম্পর্কে স্থগিতাদেশ চাওয়া হলেও এতদিন কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ বহালই ছিল। কিন্তু আদালতের কোনো নির্দেশনাই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়নি রাষ্ট্রপক্ষ। এবার আপিল খারিজের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পক্ষে কথা বলেছেন। আইনমন্ত্রীও এও বলেছেন, জনগণের প্রয়োজনে ও কল্যাণে সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন ও অধিকতর যুগোপযোগী আইন করা হবে।
আমরা আশা করব উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হবেন এবং আদালতের গাইডলাইন অনুসরণে বিতর্কিত ধারার সংশোধন প্রক্রিয়াও দ্রæত সম্পন্ন করবেন। অপরাধ দমনে ও জননিরাপত্তা রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আইনের ফাঁকফোকরে নাগরিকের অধিকার হরণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ থাকলে তাও বন্ধ করা অবশ্যই দরকার। কারণ পুলিশ সম্পর্কে জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বর্তমানে প্রায় তলানিতে। এমন অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং তাদের নিজেদের হৃত গৌরবসহ আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিনা ওয়ারেন্টে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার এবং ১৬৭ ধারায় রিমান্ডের নামে নির্যাতন বন্ধ হবে এখন থেকে। এটা একজন সংবাদকর্মী হিসেবেই নয় একই সঙ্গে একজন নাগরিক হিসেবে আশা থাকবে দ্রæত এ রায় বাস্তবায়ন। নতুবা এ জন্য সরকারের ভাবমূর্তি এবং জনপ্রিয়তাও সঙ্কট তৈরি করবে।

Check Also

বর্মি সেনাদের গুলিতে আহত ২৩৬৪ রোহিঙ্গা

অনলাইন ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৬৪ জন ওই দেশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *