Tuesday , September 26 2017
হোম / খেলার ভূবন / তর সইছে না সাতক্ষীরাবাসীর

তর সইছে না সাতক্ষীরাবাসীর

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
fiz_114758

সাতক্ষীরা জেলার সব মানুষ তার প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছে। এই জেলাকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গণে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে সদ্য কৈশোর পেরোনো যে তরুণ ‘দ্য ফিজ’ তার প্রতীক্ষার প্রহর তো গুণতেই হবে।

সোমবার রাতেই হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাটার মাস্টারকে আরিফ খান জয়সহ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্মকর্তারা সংবর্ধনা জানান। কিন্তু সাতক্ষীরাবাসীর আর তর সইছে না।

বড় ভাই মোখলেছুর নিশ্চিত না। একবার জানালেন, মঙ্গলবার। আবার বললেন, আজ নাও হতে পারে। এলাকার ছেলে হাফিজ জানালেন, মঙ্গলবার রাত ১১টা নাগাদ এলাকায় আসবে সে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শেখ নিজামউদ্দিন জানান, এলাকায় আসতে আরো দু’তিন দিন দেরি হবে। অপেক্ষা করছেন তারালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও। চেয়ারম্যান এনামুল হক জানিয়েছেন, যেদিনই আসুক, বড়সড় সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

সংবর্ধনার জন্য প্রস্তুত আছে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদও। উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ অহেদুজ্জামান বলেন, ‘আমরাও প্রস্তুত আছি। শুধু অপেক্ষা ওর শিডিউলের।’

কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের প্রতিটি মানুষ এখন একজনেরই পথ চেয়ে বসে আছে। ক্রিকেট দুনিয়ার ‘দ্য ফিজ’ মুস্তাফিজুর রহমানের। অথচ অপেক্ষার প্রহরটা ঠিক কখন শেষ হবে তা জানেন না কেউ। তাতে কী হয়েছে, গ্রামের ছেলে বাংলাদেশ কাঁপিয়ে এবার কাঁপিয়েছে ভারত। যেখানে ক্রিকেটই সবকিছু। শুধু কি তাই, চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অন্যতম ভরসা মুস্তাফিজের হাতে উঠেছে চলতি আইপিএলের সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের ট্রফি। চ্যাম্পিয়ন কি কেবল হায়দরাবাদ? কেবলই হায়দ্রাবাদে চলছে উৎসব? তেঁতুলিয়া জুড়েও চলছে উৎসব।

এলাকার মানুষ এখন ভাসছে আনন্দের সাগরে। কেনই বা নয়। আইপিএলে মুস্তাফিজের খেলায় উদ্বিগ্ন সময় কাটিয়েছে তেঁতুলিয়া। ঘুম হারাম হয়েছে এলাকার মানুষের। মুস্তাফিজের তেঁতুলিয়ার একাধিক মানুষ জানান আইপিএল মাতানো ‘দ্য ফিজ’ কখন আসবে বাড়িতে, সেই অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। মুস্তাফিজের বন্ধু হাফিজ। অপেক্ষার প্রহর যেন তাঁর আর কাটছে না।

হাফিজ বললেন, ‘আজ না হোক কাল আসতে তো হবেই তাকে। আমরা বসে আছি, ওর অপেক্ষায়, গলায় পরিয়ে দেব বিজয়ের মালা। মুস্তাফিজ আমাদের সব ঘুম কেড়ে নিয়েছে। কখনো ওর খেলা দেখেছি, কখনো ভেবেছি ওর কথা। মাঝে মাঝে কথা বলেছি ওর সাথে। খানিকটা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। চোট নিয়ে বসে পড়েছে আমাদের মুস্তাফিজ। কিন্তু পরে যখন বুঝলাম চোট তেমন গুরুতর নয়। ও খেলতে নামবে, তখন পর্যন্ত টেনশনে ছিলাম আমরা। শুধু ফাইনাল খেলা নয়, আইপিএল-জুড়েই সে ছিল ডেভিড ওয়ার্নারের তুরুপের তাস। ভুবনেশ্বর আর মুস্তাফিজের বোলিং জুটি হায়দ্রাবাদের শিরোপা জয়ের প্রধান চাবিকাঠি। সেই তো আমাদের মুস্তাফিজ।’

তেঁতুলিয়া গ্রামেই তেঁতুলিয়া হাইস্কুল, বরেয়া হাইস্কুল, বাজার ও শতদল ক্লাব। বড় পর্দা টাঙিয়ে মুস্তাফিজের খেলা দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রবিবার রাতেও মনে হয়েছিল আইপিএল ফাইনাল বোধ করি বেঙ্গালুরুতে নয়, তেঁতুলিয়ায়, মুস্তাফিজের গ্রামের বাড়িতে।

হাফিজ বললেন, ‘ফাইনালে ক্রিস গেইলের ঝড়োয়া ব্যাটিংয়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বোলাররা যখন দিশেহারা, তখন রানের গতি থামাতে মুস্তাফিজের হাতে বল তুলে দিলেন ওয়ার্নার। টিভি পর্দায় এ দৃশ্য না দেখলে তো বিশ্বাসই করা যেত না।’

মুস্তাফিজের গ্রাম এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত তাঁকে বরণ করে নিতে। তাঁর বন্ধু-বান্ধবরা আনন্দে আত্মহারা। বাবা আবুল কাসেম আর মা মাহমুদা বেগম, ভাই মোকলেছুর রহমান পল্টুসহ পরিবারের সবাই আত্মহারা কবে কখন আসবে মুস্তাফিজ।

মুস্তাফিজের স্কুল তেঁতুলিয়া ও বরেয়ার শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁরাও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন। পথে পথে সংবর্ধনার কথাও ভাবছে অনেকে। যশোর বিমানবন্দর থেকে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে কলারোয়ায় মুস্তাফিজকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক কর্মকর্তা জানালেন, জেলায় মুস্তাফিজকে বরণ করা হতে পারে ঈদের পর কোনও একসময়ে।

Check Also

বিদ্যুতের দাম ১৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির

অনলাইন ডেস্ক : গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৪ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *