Tuesday , September 26 2017
হোম / আন্তর্জাতিক / রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়াতে চায় ন্যাটো

রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়াতে চায় ন্যাটো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

1

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র ন্যাটো জোট সামরিক দিক দিয়ে দুর্বল অবস্থানে থাকার পরেও রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধানোর জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে। লন্ডনের বিখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক রডনি শেক্সপিয়ার ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন। বাল্টিক সাগর অঞ্চলের দেশগুলোতে ন্যাটোর অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য ব্রিটেন সেনা ও ভারী অস্ত্র পাঠানোর পরকিল্পনা করছে বলে প্রকাশিত খবর সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে রডনি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ন্যাটো যে কারণে আগ্রাসন চালাতে চাইছে তা হলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বর্তমানে অস্থিরতা চলছে। এমনকি নিকট ভবিষ্যতে তা বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে পড়তে পারে। এই অবস্থায় চলমান সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ন্যাটোর প্রধান সদস্য দেশগুলো যুদ্ধ বাধিয়ে অন্য কোনো দেশের ওপর দায় চাপিয়ে দিতে চায়। তবে এই ক্ষেত্রে ন্যাটো জোট রাশিয়ার শক্তিকে খাটো করে দেখছে। যা নিতান্তই ভুল। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট। রডনি প্রশ্ন তোলেন, রাশিয়ার সীমান্তে যেমন করে সেনা মোতায়েন করেছে ন্যাটো তেমনি রাশিয়া যদি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইউরোপের কোনো দেশের সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতো তাহলে তারা কী কেউ তা সহ্য করত। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ক্ষেত্রে ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন রডনি। তিনি বলেন, কয়েক বছরের এই সংঘাত মারাত্মক অবস্থা তৈরি করেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেন সংঘাতে নয় হাজারের বেশি লোক নিহত ও অন্তত ২০ হাজার আহত হয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের বহু সেনা রয়েছে। ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এদিকে সহিংসতা কবলিত সিরিয়ায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সেনা উপস্থিতির সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান। অটোমান সাম্রাজ্যের হাতে কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের ৫৬৩ তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এই সমালোচনা করেছেন। সিরিয়ায় সহিংসতা শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের জন্য অস্ত্র ও অর্থের চালান আসছে প্রধানত তুরস্কের ভেতর দিয়ে। এছাড়া সিরিয়ার বহু সন্ত্রাসী নেতারা তুরস্কে অবস্থান করে এবং কথিত ফ্রেন্ড অব সিরিয়া গ্রæপ প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের সরকারকে উৎখাতের জন্য কয়েক দফা তুরস্কের ভেতরে প্রকাশ্যে বৈঠক করেছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট নিজেও সিরিয়া সংকটে সরাসরি আসাদ বিরোধীদের পক্ষ নিয়েছেন। পাশাপাশি লাখ লাখ শরণার্থীকে ব্যবহার করে তুর্কি সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিশেষ সুবিধা নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরান ও রাশিয়া সিরিয়ার বৈধ সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধে সেনা পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে এবং ইরান দিচ্ছে সামরিক পরামর্শ। অন্যদিকে, উগ্র আইএস সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অনুমতি ছাড়াই সিরিয়ায় সেনা পাঠিয়েছে। কিন্তু এই তিন দেশকে এক কাতারে ফেলে তুর্কি প্রেসিডেন্ট সমালোচনা করেছেন। মজার বিষয় হচ্ছে এরদোগান যে মার্কিন সেনা উপস্থিতির সমালোচনা করছেন সেই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ তুরস্ক। উভয় দেশই ন্যাটো সামরিক জোটের সদস্য।

Check Also

রাখাইনে নতুন ‘হিন্দু গণকবর’, আরও ১৭ মরদেহের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সন্ধান পাওয়া এক নতুন গণকবরে আরও ১৭ জন হিন্দু রোহিঙ্গার মরদেহ পাওয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *