Friday , November 24 2017
শিরোনাম
হোম / রাজধানী / মামলা প্রত্যাহারের দাবিসহ জাবি শিক্ষার্থীদের চার দফা ঘোষণা

মামলা প্রত্যাহারের দাবিসহ জাবি শিক্ষার্থীদের চার দফা ঘোষণা

ঢাকার ডাক ডেস্ক :জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মামলা প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন, পুলিশি হামলার বিচার ও সড়কে নিরাপত্তা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়। দাবি মানা না হলে আগামী ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় মশাল মিছিল ও ৩১ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও ও লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ১৫ জুলাই শহীদ মিনারে আমরণ অনশনে বসেন। ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন সম্মানজনক সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অনশন ভাঙেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া সাত দিন পেরিয়ে গেলেও কোনও অগ্রগতি হয়নি। তাই আমরা আবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছি।’

সুস্মিতা মরিয়ম অভিযোগ জানান, পুলিশি হয়রানি বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এখনও হয়রানি অব্যাহত আছে। অনেকের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ চাঁদা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্বারা গঠিত একপাক্ষিক তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করে তা পুনর্গঠন করতে আমরা উপাচার্য বরাবর স্মরকলিপি প্রদান করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সভাপতি মাসুক হেলাল অনিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাথির মোহাম্মদ, বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসাইন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হন। তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২৭ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সেদিন বিকালে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এসময় কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন বলেও অভিযোগ ওঠে। ওই রাতেই ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মধ্যরাতে ৪২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন জামিনে মুক্তি পান তারা। এরপর থেকেই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ’ ও ‘প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

Check Also

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে নৌমন্ত্রীর ভাইয়ের মামলা

অনলাইন ডেস্ক : ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে মাদারীপুরের আদালতে ড. আসিফ নজরুলের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *