Saturday , November 25 2017
শিরোনাম
হোম / জাতীয় / জঙ্গি ওজাকির সঙ্গে নব্য জেএমবির কোনও সম্পৃক্ততা নেই

জঙ্গি ওজাকির সঙ্গে নব্য জেএমবির কোনও সম্পৃক্ততা নেই

ঢাকার ডাক ডেস্ক :জাপানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগিরক মো. সাইফুল্লাহ ওজাকির সঙ্গে বাংলাদেশের নব্য জেএমবির কোনও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনও ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাইনি। নব্য জেএমবির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই।’ একটি বিদেশি গণমাধ্যমে বাংলাদেশের আইএসের আমির হিসেবে ওজাকির নাম প্রকাশের বিষয়ে মনিরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এই এ তথ্য জানান।

সিটিটিসি প্রধান জানান, নবীনগর উপজেলার কড়ইবাড়ি গ্রামের জনার্দন দেবনাথের ছেলে সুজিত কুমার দেবনাথই সাইফুল্লাহ ওজাকি। ছাত্রজীবনে সে বৃত্তি পেয়ে জাপানে পড়াশোনা করতে যায়। পিএইচডি ডিগ্রিধারী সাইফুল্লাহ জাপানের রিৎসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ছিল। এরপর বিয়েও করে জাপানে। সুজিতের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। সে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার আসামি সাইফুল্লাহ ওজাকি (মামলা নং ২৩, তারিখ ২৪/৫/১৫ইং)। গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর নিখোঁজ হিসেবে তার নাম প্রকাশিত হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জাপানি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই তার বিষয়ে প্রথম তথ্য পায়। এরপর আমরাও তার খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করি। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর সে দুই বার বাংলাদেশে আসে। তবে বাড়িতে যায়নি কখনও। গ্রামে তার পরিবার কট্টরপন্থী হিন্দু হওয়ায় সে বাড়িতে গেলে হয়তো পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় পরতো। তাই সে কখনও বাড়ি যায়নি।’

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও আইএস-এর দাবিক ম্যাগাজিনে সাইফুল্লাহ ওজাকিকে ওই জঙ্গি সংগঠনটির বাংলাদেশের আমির হিসেবে দাবি করে। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

সাইফুল্লাহ ওজাকির বাবা জনার্ধন দেবনাথ পেশায় একজন কাপড় ব্যবসায়ী। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনদপুর বাজারের  প্রতিষ্ঠিত একজন কাপড় ব্যবসায়ী। জিনদপুর বাজারে স্থায়ী দোকান খোলার আগে বিভিন্ন হাটে ঘুরে ঘুরে কাপড় বিক্রি করতেন তিনি। সুজিত ওরফে সাইফুল্লাহর মায়ের নাম অনিতা রানী দেবী।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘ওজাকির সর্বশেষ অবস্থানের খবর  বুলগেরিয়া থেকে পাওয়া যায়। এরপর সে কোথায় গেছে, তা আর জানা যায়নি। সে বেঁচে আছে কিনা, তাও জানা সম্ভব হয়নি। মরেও যেতে পারে। কারও কাছে তো কোনও তথ্য-প্রমাণ নেই।’

তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৫ সালের দিকে ওজাকি সপরিবারে বুলগেরিয়া হয়ে তুরস্ক দিয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করে। তবে, তার সঙ্গে নব্য জেএমবির কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেন মনিরুল ইসলাম।

গোয়েন্দারা ওজাকি সম্পর্কে বলেন, ‘ওজাকির একটি ফোরাম ছিল। ওই ফোরামে তার দৃষ্টিতে যেসব ব্যক্তিকে জেহাদি মনোভাবের মনে হতো, তাদের সে টার্গেট করে ইনবক্সে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলতো। এরপর তাদের সিরিয়া বা অন্য কোথাও পাঠানোর চেষ্টা করতো। তবে বাংলাদেশ থেকে বেশি লোক পাঠাতে পারেনি। দুই বা তিনজনকে সে পাঠিয়েছে বলে তথ্য রয়েছে।’

বাংলাদেশে ‘নব্য জেএমবি’র সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের কোনও এক সময়ে। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম আহমেদ চৌধুরী দেশে এসে প্রথমে আইএসের জন্য যোদ্ধা সংগ্রহের কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে সে প্রথমে জুনুদ আল তাওহিদ আল খালিফা নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। সেই সংগঠন থেকেই জন্ম হয় যে সংগঠনের,  সে সংগঠনটিকে ‘নব্য জেএমবি’ বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই নব্য জেএমবি সৃষ্টিতে যে পাঁচ জনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তাদের অন্যতম তামিম চৌধুরী। বাকি চারজন হলো— সারোয়ার জাহান ওরফে মানিক, আব্দুস সামাদ ওরফে আরিফ ওরফে মামু, শাইখ আবুল কাশেম ও মামুনুর রশীদ রিপন। তাদের মধ্যে তামিম ও মানিক সিটিটিসি ও র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়েছে। আবুল কাশেম গ্রেফতার হয়েছে, আর আব্দুস সামাদ ও রিপন এখনও পলাতক।

Check Also

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কেরানীগঞ্জে জমি ইজারা পেল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক :  ভ্রাম্যমাণ ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনালের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *