Friday , November 24 2017
শিরোনাম
হোম / ব্যবসা বানিজ্য / দেশে বেড়েছে মাছের উৎপাদন

দেশে বেড়েছে মাছের উৎপাদন

ঢাকার ডাক ডেস্ক :দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এক যুগ ধরেই এই অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। আর সমুদ্রে মাছ আহরণের দিক থেকে অবস্থান ২৫তম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা (এফএও) এর ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাক্যুয়াকালচার’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, গত এক দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। আর রফতানির পরিমাণ বেড়েছে ১৩৫ গুণ। দেশে মাথাপিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণও বেড়ে শতভাগে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে। এর মধ্যে প্রথম দেশটি হবে বাংলাদেশ। তবে দেশে বদ্ধ জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়লেও মুক্তভাবে মাছ উৎপাদন কমেছে।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৩-৮৪ সালে মৎস্য খাতে উন্মুক্ত জলাশয়ের অবদান ৬৩ শতাংশ। ২০১২-১৩ সালে এটা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৮ শতাংশে। বর্তমানে এর অবস্থান আরও নিম্নমুখী। মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে মনুষ্যসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কারণে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাওড়ের পানির প্রবাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করেছে মৎস্য অধিদফতর।

এফএও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি উদ্যোগ এবং মৎস্যজীবীদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে মাছ উৎপাদনের নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। মাছ উৎপাদনে বাকি শীর্ষ তিনটি দেশ হলো চীন, ভারত ও মিয়ানমার। ২০০৬ সালে ভারতকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ।

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন। পরবর্তীতে মৎস্যবান্ধব কার্যক্রম, চাষি ও উদ্যোক্তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণের ফলে ২০১২-১৩ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৩৪ লাখ ১০ মেট্রিক টন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয় প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ মেট্রিক টন। যা এক দশক আগেও ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২ টনে নেমে আসে। এরপর মা-ইলিশ রক্ষা কর্মসূচি সরকার বিশেষভাবে নজর দিলে উৎপাদন বাড়তে থাকে। ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৯২১ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। যা পর্যায়ক্রমে বেড়ে চলেছে। এতে ২০০৪-২০১৪ এই এক দশকে বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ২০২০-২১ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় সব মিলিয়ে ৪৫ দশমিক ৫২ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও দেশে মাছের চাহিদা ৩৭ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ অর্থনৈতিক শুমারি অনুযায়ী, চাষ করা মাছের পরিমাণ তিন দশকে তিন রকম। এর মধ্যে ১৯৯০ সালে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন। ২০০০ সালে ছিল ৬ লাখ ৫৭ হাজার টন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ টন। এসব উৎপাদন মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের নদী, সুন্দরবন, কাপ্তাই লেক, বিল ও প্লাবন ভূমি এবং বদ্ধ জলাশয়ের মধ্যে পুকুর, মৌসুমি চাষকৃত জলাশয়, বাওড় ও চিংড়ি ঘের থেকে উৎপাদিত হয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের যথাযথ উদ্যোগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮ হাজার ৩০৫ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রফতানি করা হয়েছে। এতে সরকারের আয় হয়েছে চার হাজার ২৮৭ কোটি টাকা।’ তিনি বলেন, ‘মহাজোট সরকার লুটপাটের জন্য নয়, জনগণের সেবার জন্য ক্ষমতায় এসেছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্যবান্ধব সরকারের উন্নয়নমুখী বহুবিধ উদ্যোগ ও সেবায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মাছের উৎপাদন ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। আগামী অর্থবছরের (২০১৮-১৯) মধ্যেই বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।’

মৎস্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে পোনা অবমুক্তকরণ, বিল নার্সারি স্থাপন ও মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণের ফলে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট ৭১৫টি বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরেই স্থাপন করা হয়েছে ২০৬টি। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন হচ্ছে এবং এসবে অনেক বিপন্ন প্রায় মাছের আবির্ভাব ঘটেছে। এছাড়া গত ৫ বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে ৫৩৪টি অভয়াশ্রমসহ দেশব্যাপী প্রায় ৫৫০টি অভয়াশ্রম স্থানীয়ভাবে পরিচালতি হচ্ছে। এসব অভয়াশ্রমে চিতল, ফলি, বামোস, কালিবাউস, আইড়, টেংরা, মেনি, বউরাণী, সরপুটি, মধু পাবদা, রিটা, গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের মাছ উৎপাদনে ইলিশ সব চেয়ে বড় ভূমিকা পালনে করছে। এক সময় ছিল মা ইলিশ কোন সময় ডিম ছাড়ে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা ছিল না। এ বিষয়ে ৪-৫ বছর বিশেষজ্ঞসহ ইলিশ উৎপাদনের বিভিন্ন এলাকার মানুষ, জেলে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েকদফা মিটিং করে স্বচ্ছ ধারণা পেয়ে এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেই। এরফলে এক দশকেই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় প্রায় ৩ গুণ।’

চাষকৃত মাছের উৎপাদন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে তেলাপিয়া, পাঙ্গাস ও কৈ এই তিন শ্রেণির মাছ বেশি উৎপাদন করা হচ্ছে।’

Check Also

বিশ্বমানের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকদের জন্য গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ইউজিসির

অনলাইন ডেস্ক : দেশে দক্ষ ফ্যাকাল্টি তৈরির উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্বমানের একটি গবেষণা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *