Saturday , November 25 2017
শিরোনাম
হোম / জাতীয় / অব্যাহতি পাওয়া তিন ব্যক্তির অভিযোগ পুনঃতদন্ত

অব্যাহতি পাওয়া তিন ব্যক্তির অভিযোগ পুনঃতদন্ত

বিশেষ প্রতিনিধি : আগের কমিশন আমলে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের অব্যাহতির বেশ কিছু নথি ফের তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখার নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানান, কমিশনে আসা অভিযোগ থেকে কেন অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ওই সব অভিযোগ অনুসন্ধান বা তদন্তে কোন গাফিলতি বা কারও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট রয়েছে কিনা। অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, কর্তারা যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল কোন কোন অভিযোগ অনুসন্ধান ছাড়াই ওই ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। দায় সারা অনুসন্ধান করে অভিযোগ থেকে যারা দায় মুক্তি পেয়েছেন তারা হলেন, রেলপথ মন্ত্রীর উপ-সচিব এ.কে.এম গোলাম কিবরিয়া মজুমন্দার, মোজাম্মেল হক পূর্বঞ্চালের সাবেক মহাব্যবস্থাপক চট্টগ্রাম, মো. শহিদুল ইসলাম অতিরিক্ত সিই(পথ) পূর্ব চট্টগ্রাম কমিটির আহবায়ক, মো. মোফাজ্জেল হোসেন (এসপিও) পূর্ব চট্টগ্রাম, বর্তমানে পিআরএল সদস্য সচিব, ফরিদ আহমেদ (এজিএম) পূর্ব চট্টগ্রাম, বর্তমানে ডিসিওএস পরিদর্শন সদস্য, এফএম মহিউদ্দিন এম.ই (সদর) পূর্বাঞ্চল বর্তমানে ডব্লিউ.এম.সি সদস্য পাহারতলী, মোস্তাফিজুর রহমান ডিটি.এস সদস্য. লালমনি।
২০১৫ সালের  ১৬ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এ সব ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের এক হাজার ৪৪১ জন খালাসি পদে ৩০ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অনুসন্ধান শেষে গত বছরের ১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। অনুসন্ধানে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমান না পাওয়ায় বিষয়টি নথিভূক্ত করা হয়। এ অভিযোগ অনুসন্ধান করেন দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। তাকে তদন্ত থেকে সরিয়ে ডেক্সের দায়িত্বে দিয়েছেন কমিশন। দুদকে দাখিল করা প্রতিবেদনে অঅরো বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০১০ সালে খালাসি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর বিপরীতে ৪০ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ে। ২০১২ সালে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। রেলওয়েতে খালাসি পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৪০০ জনের একটি তালিকা দেয়া হয়। এ তালিকার শতভাগ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের অন্তভূক্ত ৭ সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া হয় ১১৬ জনের তালিকা। নিয়োগপ্রাপ্ত ১ হাজার ৪৪১ জনের মধ্যে অন্তত ১ হাজার জনের চাকরি হয়েছে টাকার বিনিময়ে। প্রতি পদের বিপরীতে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়। এর মধ্যে থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক লীগের সিন্ডিকেট অন্তত ১৫ কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন। রেলওয়ে শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকে ৬০০ জনের তালিকা মন্ত্রীকে দেয়া হয়। অনুসন্ধান কর্মকর্তা বলেন, ঘুষ নেয়া প্রমান করা অসম্ভব। তবে সম্পদের বিবরণীর হিসাব ছাড়া তাদের অপরাধী প্রমান করা সম্ভব নয়। ওই সময়ের কমিশন তাদের সম্পদের হিসেব চায়নি। এছাড়া বিটিসিএল সিডিআর দুর্নীতি মামলায় ওই প্রতিষ্ঠানের মোহাম্মদ তৌফিতসহ শীর্ষ দুর্নীতিবাজ ১৭ কর্মকর্তাকে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা দুুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। ২০১৫ সালের সেপ্টম্বরের মাঝামাঝিতে তদন্তের কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং ১৭ নভেম্বর রবিবার কমিশনে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে ৬০৭ কোটি ৫৭ লাখ এক হাজার ৬৩১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। ঘটনায় ২৫ জনকে আসামী করে পৃথক ৪টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাহাঙ্গীর আলমকে ৩৯ ও ৪০ নং মামলার তদন্ত দায়িত্ব দেন সাবেক কমিশন। অপর দুই মামলার তদন্ত করেন, দুদকের উপপরিচালক মাহামুদ হাসান এবং এস এম সাহিদুর রহমান (বর্তমানে তিনি হিসাব ও অর্থ শাখার পরিচালকের দায়িত্বে আছেন)।


এ ঘটনায় যাদের অব্যাহতি দিয়েছেন তারা হলেন- সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু সাইদ খান, আজিজুল ইসলাম, এসওএম কলিমুল¬াহ, খাবিরুজ্জামান, আবছার আলম, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তৌফিক, প্রাক্তন জিএম আনোয়ারুল মামুন, প্রাক্তন সদস্য এএইচএম বখতিয়ারুল হুদা, এরকিসন বাংলাদেশ লিমিটেডের কন্টাক্ট ম্যানেজার আসিফ জাহিদ চৌধুরী, রিলেশন ম্যানেজার নজরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, মো. বাবর, বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন মাসুদ, ছাইফুর রহমান ভূঁইয়া, প্রাক্তন সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলী সামসাদ মাহমুদ, এবং ইঞ্জিনিয়ার মাসরুরুল হাকিম। ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক কল দুর্নীতি ২০৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় কয়েকটি মামলা করে দুদক। ওই মামলা তদন্ত করে প্রকৃত দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌফিক এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু সাইদ খানকে অব্যাহতি দেন ওই সময়ের কমিশনর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে বর্তমান কমিশন বিটিসিএল দুর্নীতি মামলার আসামীদের চাজর্শিটের অন্তর্ভূক্ত না করায় কারণ দোষাতে অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমকে নোটিশ দেয় কমিশন। জবাবে কমিশন অসন্তোষ্ট হয়ে তাকে বিভাগীয় কমিশন ময়মনসিংহে বদলী করে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছিল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা না করতে ১০কোটি টাকা আর্থিক সুবিধা নিয়েছে কমিশন। দুদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ওই বছরের মে মাসে বিলাশ বহুল একটি প্রাইভেট গাড়ি ক্রয় করেন দুদকের চেয়ারম্যান (সাবেক কমিশনার) বদিউজ্জামান। যার নাম্বার ঢাকা-মেট্রো-চ ১৫-১১৩৩। সাবেক কমিশন আমলে তদবিরের মূল হোতা ছিলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাই কামাল হোসেন। সে বর্তমানে কোটি টাকার বিলাশ বহুল গাড়িতে চরে চোষে বেড়ান ঢাকা নোয়াখালী। এ মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে পূনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


উল্লেখ্য, অনুসন্ধান ছাড়াই ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাসকিম এ খানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার  বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিসাধনের অভিযোগ ছিল দুদকে। কমিশনে কাছে আসা অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার বর্তমান এমডি বিনা টেন্ডারে ওয়াসার পদ্মা জশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং পরামর্শক নিয়োগের আগেই তড়িঘড়ি করে নিম্নমানের পাইপ আমদানি করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের ১ বছর আগেই ঢাকা ওয়াসা ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। ওই সময় দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। ঢাকা ওয়াসার পদ্মা জশলদিয়া প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে দুদক আইনে কোন ব্যবস্থা নেই এমন এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোন মন্তব্য না করে তিনি জানিয়েছিলেন, কমিশন কাউকে জবাবদীহিতা করবে না। ওয়াসার এমডিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়ে আমার মনে নেই। অভিযোগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন, কমিশনের উপ-পরিচালক আব্দুস ছালাম। ওয়াসার এমডি তাসকিন এ খানের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিয়োগ অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে কমিশনের কাছে চিঠি দেন তিনি। কমিশন অনুসন্ধানের অনুমতি না দিয়ে ওয়াসার এমডির অভিযোগ নথিভূক্ত করা হয়। সাবেক কমিশনের দুর্নীতিবাজদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ব্যস্ত থাকায় তিনি কোন কথা বলতে পারেননি। দুদক সচিব অঅবু মো. মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি দীর্ঘ দিনের। নথিপত্র না দেখে কিছু বলা ঠিক হবে না।

Check Also

শিশু হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে বাংলাদেশেই

অনলাইন ডেস্ক : ঝিনাইদহ থেকে ২ বছরের মেয়ে লামিসাকে নিয়ে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *