Saturday , November 25 2017
শিরোনাম
হোম / ব্যবসা বানিজ্য / বীমার আওতায় আসছে গরু, ছাগল ও মহিষ

বীমার আওতায় আসছে গরু, ছাগল ও মহিষ

অনলাইন ডেস্ক : এতদিন বীমা হত মানুষ, যানবাহন ও মানুষের স্থায়ী সম্পদের। এবার বীমা সুবিধার আওতায় আসছে গরু, ছাগল ও মহিষ। এ বীমার নাম প্রাণিজসম্পদ বীমা। প্রাণিজসম্পদ বীমা চালু করতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বীমার আওতায় আসা প্রতিটি পশুকে আলাদা পরিচিতি নম্বর দেয়া হবে। এসব পশুর স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পুষ্টির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটানোর জন্য সরকার প্রাণিজসম্পদের উন্নয়নে কৃষকদের নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে আসছে। অবশ্য বিজ্ঞানভিত্তিক এসব সুবিধা পেয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। প্রাণিজসম্পদের বৃদ্ধিও ঘটছে দ্রুত। এবার যেহেতু পশুসম্পদ বীমার আওতায় এসেছে সেহেতু কৃষকের সাহস আরও বাড়বে এবং দেশে দ্রুত আমিষের চাহিদা পূরণ করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবে কৃষক।

সূত্র আরও জানায়, গবাদিপশুর বীমা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। এ লক্ষ্যে একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মো. আইনুল হক গরু, ছাগল, মহিষের বীমা ও প্রকল্পের কথা স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে এবং প্রাণিজসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ও কৃষকদের উৎসাহ দিতে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

ডা. আইনুল হক জানান, বিশ্বের অনেক দেশে পশু বীমার আওতায় থাকলেও বাংলাদেশে এ ধারণা নতুন।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, ‘প্রাণিজসম্পদ খাতে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা চালু করতে ডেইরি বিপ্লব ও মাংস উৎপাদনের মাধ্যমে প্রাণিজসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এক হাজার ২৩৩ কোটি টাকা বিদেশি সহায়তার অনুসন্ধান চলছে। তবে এ প্রকল্পে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় চার হাজার কোটি টাকা।

প্রাণিজসম্পদের উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্পের আওতায় ৯ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। বাজারজাত ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় হবে ২৪ কোটি ডলার। আর ডেইরি শিল্পের ঝুঁকি কমাতে বরাদ্দ থাকবে ১৪ কোটি ডলার। এর বাইরে আরও তিন কোটি ডলার ব্যয় হবে প্রকল্পব্যবস্থা ও মূল্যায়নে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মোট দুইটি উপখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ৯ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে তিন কোটি ডলার ব্যয় হবে খামারিদের একটি সংগঠন গড়ে তুলতে। সংগঠনটি নিজেদের সামষ্টিক স্বার্থে কাজ করবে। ছয় কোটি ডলার ব্যয় করে উৎপাদনশীলতা, দক্ষতা ও মান উন্নয়ন করা হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ও পুষ্টি ভারসাম্য, প্রজনন উন্নয়ন, আবাসন উন্নয়ন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পানিব্যবস্থাপনায় ব্যয় হবে এ খাতের অর্থ।

পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ডেইরিপণ্যের বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে ২৪ কোটি ডলার। এর মধ্যে উৎপাদনশীল খাতগুলোর মধ্যে অর্থাৎ প্রাণিজসম্পদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৃষিব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান, বিক্রেতা ও পল্লী অঞ্চলের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করা হবে। ১২ কোটি ডলার ব্যয় করে গড়ে তোলা হবে ডেইরি শিল্প-বান্ধব অবকাঠামো। খামার এলাকায় ডেইরি খাদ্য সরবরাহ ও খামার থেকে বাজার পর্যন্ত পণ্য পরিবহনে প্রয়োজনীয় রাস্তা গড়ে তোলা হবে। ব্যবস্থা করা হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির। স্থাপন করা হবে কসাইখানা।

প্রকল্পটির আওতায় ডেইরি খাতের ঝুঁকি কমাতে প্রায় ১৪ কোটি ডলার ব্যয় করার প্রস্তাব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর আওতায় প্রাণিজসম্পদ অধিদফতরের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যয় করা হবে পাঁচ কোটি ডলার। প্রাণিজসম্পদের জন্য বীমা ব্যবস্থা প্রণয়নে ব্যয় করা হবে আরও পাঁচ কোটি ডলার। এর মাধ্যমে এ খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়বে বলেও মনে করে বিশ্বব্যাংক।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আইনুল হক বলেন, দেশের মানুষের জন্য মাংসের চাহিদা মেটাতে এবং ভোক্তারা যাতে স্বল্পমূল্যে মাংস খেতে পারে সে জন্যই বীমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্য পৌঁছাতে বিভিন্ন ধরনের বাধা থাকায় ডেইরি পণ্যের দামে পার্থক্য দেখা দেয়। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি উৎপাদক ও ভোক্তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ফলে দামের পার্থক্য কমে আসবে। উৎপাদকরা পণ্যের ন্যায্য দাম পাবেন। ভোক্তারাও পণ্য পাবেন তুলনামূলক কম দামে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, আমাদের দেশের কৃষক অনেক সময় পশুর মৃত্যুজনিত কারণে সমস্ত মূলধন হারিয়ে ফেলেন। ইচ্ছা থাকলেও অনেক কৃষক পশু পালনের মতো ব্যবসায় আর আসতে চান না। বীমা সুবিধা দিলে অনেকেই এ ব্যবসায় উৎসাহী হবেন। তখন দেশে মাংসের উৎপাদনও বাড়বে।

Check Also

বিশ্বমানের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকদের জন্য গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ইউজিসির

অনলাইন ডেস্ক : দেশে দক্ষ ফ্যাকাল্টি তৈরির উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্বমানের একটি গবেষণা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *