Saturday , September 23 2017
শিরোনাম
হোম / আন্তর্জাতিক / দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইনের সহিংসতা এড়াতে গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। জা্তিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-কে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই খবর জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে প্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ৬৪। তবে নতুন করে বেশকিছু শরণার্থী দলের খোঁজ পেয়ে একদিনের ব্যবধানে অনুপ্রবেশকারীর নতুন সংখ্যা হাজির করলো সংস্থাটি।

সাম্প্রতিক ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় ‘বিদ্রোহী রোহিঙ্গা’রা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। এরপর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। পাহাড় বেয়ে ভেসে আসতে শুরু করে বিস্ফোরণ আর গুলির শব্দ। পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামগুলো থেকে আগুনের ধোঁয়া এসে মিশছে মৌসুমী বাতাসে। মায়ের কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে শূন্যে ছুড়ছেন সেনারা। কখনও কখনও কেটে ফেলা হচ্ছে তাদের গলা। জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে মানুষকে। আহত শরণার্থী হয়ে তারা ছুটছে বাংলাদেশ সীমান্তে।

রোহিঙ্গাদের বিপন্নতা-৪

শুক্রবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক  হাই কমিশনারের মুখপাত্র ভিভিয়ান তান বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে নতুন তথ্য জানান। ভিভিয়ান তান বলেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় ঠিক কত জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে পূর্ববর্তী শরণার্থী বিষয়ক পরিসংখ্যানে তাে সঠিক প্রতিফলন ঘটেনি। সীমান্ত অঞ্চলে আমরা আরও কিছু শরণার্থীর সন্ধান পেয়েছি। পূর্বে তাদের অবস্থান সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনও তথ্য ছিল না।’ শরণার্থীর এ বিপুল সংখ্যাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দেন তিনি।

রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে একদিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় মন্তব্য করতে গিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি শুক্রবার জানিয়েছেন, আনান কমিশনের প্রস্তাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যয়বিচার নিশ্চিতের যে সুপারিশ করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন তিনি। তবে কমিশনের প্রস্তাবে রাখাইন পরিস্থিতির সংকট উত্তরণে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতের জোরালো আহ্বান জানানো হলেও সু চি এ ব্যাপারে কিছু বলেননি।

এদিকে বৈধ কাগজপত্রহীন রোহিঙ্গাদের ‘নাগরিকত্ব’ প্রশ্নে নেতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষদের দেশে ফিরতে গেলে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে।এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রকারন্তরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা বৈধ কাগজপত্রহীন অন্তত ২ লাখ ৭০ হাজারখ রোহিঙ্গার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। কেননা মিয়ানমার কখনও তাদের নাগরিকত্ব দেয়নি। তাদের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই।

Check Also

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সু চি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে ‘চাপ’ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমরা যে ট্র্যাজেডির শিকার হচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। রোহিঙ্গাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *