Friday , September 22 2017
হোম / শিরোনাম / সীমান্তে ভূমি মাইন পেতেছে মিয়ানমার: অ্যামনেস্টি

সীমান্তে ভূমি মাইন পেতেছে মিয়ানমার: অ্যামনেস্টি

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের ভূমি মাইন পাতার প্রমাণ পেয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এটি সেনা অভিযানের কারণে  জীবন বাঁচাতে পলায়নপর রোহিঙ্গাদের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করছে। শনিবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি, এমন ঘটনা উদ্বেগজনক।

বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্ত সংলগ্ন রাখাইনের তুং পায়ো লেট ওয়াল (তুমরো হিসেবে পরিচিত) এলাকায় কিছু মাইন পাওয়া গেছে। এ রাজ্যের সীমান্তে গত সপ্তাহে নিষিদ্ধ ভূমি মাইনের আঘাতে দুই শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। কমপক্ষে একজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং আমাদের নিজস্ব অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ থেকে এটা পরিষ্কার যে, মিয়ানমারের সেনা সদস্যরাই এসব মাইন পেতে রেখেছে।

৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে আসার সময় পঞ্চাশোর্ধ এক নারীর পা মাইনের ওপর পড়ে। পা উড়ে যাওয়ায় তাকে এখন বাংলাদেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন সংস্থাটির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান। তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের অবস্থা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, ভূমি মাইন পেতে রাখা পুরো পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে গেছে। প্রাণভয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ পালিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে পথিমধ্যে এভাবে অমানবিকভাবে মারণাস্ত্রের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।’

রোহিঙ্গাদের অনেকেই বাংলাদেশের ভেতরের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে পালিয়ে এলেও প্রয়োজনীয় কিছু আনা ও অন্যদের সীমান্ত পার হতে সাহায্য করতে মাঝে মাঝে সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত করেন।

 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর এ প্রতিবেদনের সত্যতা পেয়েছে। আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি আবদুল আজিজ জানিয়েছেন, রাখাইনে চলমান সহিংসতার ঘটনায় যেসব রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে, এর মধ্যে রয়েছে আঘাতপ্রাপ্ত নারী, পুরুষ ও শিশু। তাদের বেশিরভাগই গুলিবিদ্ধ ও স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত। এই সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়া সর্দি, কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ‘এমএসএফ’  হাসপাতাল, কুতুপালং কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন হাসপাতালে এসব রোহিঙ্গা চিকিৎসা নিচ্ছে।

স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, ইতোমধ্যে যে সব রোগী আঘাতজনিত কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন, তাদের অধিকাংশই সীমান্ত পার হতে গিয়ে স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত। একইভাবে গুলিবিদ্ধ রোগীর সংখ্যাও কম নয়। গত এক সপ্তাহে ১০ জন স্থল মাইন বিস্ফোরণে আহত ও ৫০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে পা হারিয়েছেন রোহিঙ্গা নারী সাবেকুন্নাহার (৫০)। তিনি প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসছিলেন। তিনি মিয়ানমারের তুমব্রু বাজার এলাকার জাফর আলমের স্ত্রী। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত সাবেকুন্নাহারের ভগ্নিপতি মোহাম্মদ সাদ জানান, ‘চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেকুন্নাহারের ডান পা কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। ’ তিনি জানান, ‘সীমান্তজুড়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নতুন করে মাইন পুঁতে রেখেছে। এতে  কোনও রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হতে গেলেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ২০৮ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত এবং ৬৪ কিলোমিটার নৌ সীমান্ত। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সীমান্তরক্ষীরা। সূত্র: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

Check Also

বর্মি সেনাদের গুলিতে আহত ২৩৬৪ রোহিঙ্গা

অনলাইন ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৬৪ জন ওই দেশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *