Sunday , September 24 2017
হোম / রাজধানী / শনাক্ত না হওয়ায় এখনো হিমাগারে পাঁচ শ্রমিকের লাশ

শনাক্ত না হওয়ায় এখনো হিমাগারে পাঁচ শ্রমিকের লাশ

ঢাকার ডাক ডেস্ক : গাজীপুরের টঙ্গীর শিল্প নগরী এলাকায় টাম্পাকো ফয়লস্ লিমিটেড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হল আজ। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভোরের আলো ফোটার আগেই নিভে যায় ৪২ শ্রমিকের তাজা প্রাণ। সেদিন কারখানার গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর অগ্নিকুণ্ডলিতে পরিণত হয় টাম্পাকো। এতে কারখানার পাঁচ তলা ভবনসহ অধিকাংশ অবকাঠামো ভেঙ্গে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। আগুনে পুড়ে ও ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন ৪২ জন। আহত হন প্রায় ৭৫ জন। আহতদের মধ্যে অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হলেও শ্রমিক পরিবারগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার মত নয়।

এদিকে লাশের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ার অজুহাতে নিহতদের মধ্যে পাঁচ শ্রমিকের পরিবারগুলোকে ঘোষিত ক্ষতিপূরণের টাকা এখনো দেয়া হয়নি। গত এক বছর ধরে ডিএনএ টেস্টের অপেক্ষায় পাঁচটি লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পড়ে রয়েছে।

তারা হলেন- নাজিম উদ্দিন, মাসুদ আহমেদ, জহিরুল ইসলাম, আনিসুর রহমান ও জয়নুল ইসলাম। এছাড়াও দুর্ঘটনার পাঁচ মাস পর গত ফেব্রুয়ারিতে ডিএনএ টেস্টে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর রফিকুল ইসলাম, রিয়াজ হোসেন মুরাদ, রেদওয়ান আহমেদ ও আল-মামুনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে শনাক্ত হওয়া চার শ্রমিকের স্বজনদের কাছে গাজীপুর-২ আসনের সাংসদ মো. জাহিদ আহসান রাসেলের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়। নিহত স্বজনদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এই দুর্ঘটনায় মালিকপক্ষকে দায়ী করে নিহত শ্রমিক জুয়েলের বাবা আব্দুল কাদের গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর ও পুলিশের পক্ষ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি মামলা করা হয়। এছাড়া গাজীপুর জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, শ্রম মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (জামাক) পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। ধ্বংসপ্রাপ্ত কারখানার তিন কোটি টাকার মালামাল চুরির অভিযোগে কারখানার পক্ষ থেকে আরো একটি পাল্টা মামলা করা হয়। এসব মামলা ও তদন্ত কমিটির একটিও এখনো কোনো আলোর মুখ দেখেনি।

উল্লেখ্য, গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী বিসিক শিল্প এলাকায় সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন টাম্পাকো ফয়েলস কারখানায় গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর সকালে বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির চারটি ভবনের তিনটি ধসে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৭৫ জন। নিখোঁজ ছিলেন মোট নয়জন। পরে ডিএনএ টেস্টে চারজনের পরিচয় শনাক্ত হলে নিখোঁজের তালিকায় থাকেন আরো পাঁচজন। পুড়ে যাওয়া লাশের অংশ বিশেষ পরীক্ষায় এখনো নিখোঁজ ওই পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি।

Check Also

সাইনবোর্ডেই ঝুলছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নিরাপত্তা

অনলাইন ডেস্ক : ‘বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।’ ‘গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩০ কি.মি.।’ ‘রাস্তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *