Tuesday , September 26 2017
হোম / ব্যবসা বানিজ্য / রেমিটেন্সের মতো রপ্তানি আয়ও বাড়ছে

রেমিটেন্সের মতো রপ্তানি আয়ও বাড়ছে

অপরদিকে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ২৫৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের এই গতিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ‘সুখবর’ হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা।

অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত বলেছেন, গত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়নি। রেমিটেন্স কমেছিল ১৫ শতাংশের মতো। চলতি অর্থবছরে প্রথম দুই মাসের যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে অর্থনীতির এই দুই সূচকই বেশ ভালো মনে হচ্ছে।

“যার ইতিবাচক প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতে পড়বে।”

রোববার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, অগাস্ট মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩৬৪ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অংক গত বছরের অগাস্ট মাসের চেয়ে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৫ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আয় হয়েছিল ৩২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে এই দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) মোট আয় হয়েছে ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১৪ কোটি ডলার।

গত অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে আয় হয়েছিল ৫৮২ কোটি ২৯ লাখ ডলার।

এ হিসাবে এই দুই মাসে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশই এসেছে তেরি পোশাক থেকে। নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ২৮৬ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। আর উভেন থেকে এসেছে ২৬৫ কোটি ৫৪ লাখ ডলার।

নিটে আয় বেড়েছে ১৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। উভেনে বেড়েছে ১১ শতাংশ।

জুলাই-অগাস্ট সময়ে নিট পোশাকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। উভেনে বেড়েছে ৮ শতাংশ।

অন্যান্য খাতের মধ্যে এই দুই মাসে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি বেড়েছে ৪০ শতাংশ। কৃষি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

তবে আয় কমেছে কেমিক্যাল পণ্যে ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ, গ্লাস ও গ্লাস জাতীয় পণ্যে ১৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ পণ্য রপ্তানি থেকে তিন হাজার ৪৬৫ কোটি ৫৯ লাখ (৩৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন) ডলার আয় করে, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

অর্থবছরের শুরুটা ‘ভালোই হয়েছে’ মন্তব্য করে পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, সার্বিক রপ্তানিতে ১৪ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি বেশ ভালো। পোশাক খাতেও একই রকম প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

মূলত তৈরি পোশাকের উপর ভর করেই এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে বর্তমান বিশ্ববাজারে যেভাবে পোশাকের দাম কমছে তাতে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা খুবই চ্যালেঞ্জিং মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এক-দুই মাসের তথ্য দিয়ে বোঝা যাবে না। তিন-চার মাসের তথ্য পাওয়া গেলে বোঝা যাবে পরিস্থিতি কেমন হবে।”

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির বহুমুখী প্রতিকূলতার কারণে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

“তবে আমাদের প্রধান দুটি রপ্তানি বাজারের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অঞ্চলে রপ্তানি ইতোমধ্যেই অনেকখানি বেড়েছে। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত হওয়ায় এ বাজারেও আমাদের রপ্তানির পরিমাণ অনেকখানি বাড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

Check Also

ধরায় নিষেধাজ্ঞার আগে বেড়েছে ইলিশের দাম

অর্থনীতি ডেস্ক : গত কয়েক দিন ধরে বাজারে অনেকটা ক্রেতাদের নাগালে ছিল ইলিশের দাম। চড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *