Tuesday , December 12 2017
হোম / ব্যবসা বানিজ্য / ছয় মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় চার হাজার

ছয় মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় চার হাজার

অর্থনীতি ডেস্ক : ছয় মাস আগে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে কোটিপতি আমানতকারী ছিলেন ৬২ হাজার ৩৮ জন। এখন এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৯৫১ জনে। ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে নতুন কোটিপতি আমানতকারী যুক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৯১৩ জন। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনটিতে দেখা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংকে ৬৫ হাজার ৯৫১ জন কোটিপতি আমানতকারীর মধ্যে ৫০ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ আমানত রাখা ব্যক্তি রয়েছেন ৭৮৪ জন। আর এক কোটি টাকার ওপরে আমানত রাখা ব্যক্তির সংখ্যা ৫২ হাজার ৮৭। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস আগে (গত সেপ্টেম্বরে) ব্যাংকিং খাতে ৫০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ আমানতকারী ছিলেন ৭০২ জন। অর্থাৎ, ছয় মাসে নতুন করে ৮২ জন ব্যক্তি  ৫০ কোটি টাকারও বেশি পরিমাণ অর্থ আমানত জমা রেখেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘কল্যাণ অর্থনীতির নীতি থেকে সরে যাওয়ার কারণে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘নিশ্চিত করে বলা যায়, বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি ধনতান্ত্রিক অর্থনীতিকে অনুসরণ করছে। যেটা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি। যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিতে মূলত জোর জুলম করে যেমন-তেমন করে টাকা বানানো হয়। কিন্তু ইউরোপের অর্থনীতি হলো কল্যাণ অর্থনীতি। যেখানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ইউরোপের মডেল থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রের মডেলে যাওয়ার পরই ব্যাংক লুট হওয়া শুরু হয়েছে। কিছু মানুষ জোর জুলম করে, যেমন-তেমন করে টাকা বানাচ্ছে। যেটাকে ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা করা চলে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মার্চ মাস শেষে ৪০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন এমন ব্যক্তি রয়েছেন ৩০৬ জন। ৩৫ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ১৭৩ জন। ৩০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ২৩৮ জন। ২৫ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ৪২১ জন। ২০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ৭৬১ জন। ১৫ কোটি টাকারও বেশি আমানত রাখা ব্যক্তির সংখ্যা ১ হাজার ২৪৩। ১০ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ২ হাজার ৫১০ জন। ৫ কোটি টাকারও বেশি আমানত রেখেছেন ৭ হাজার ৪২৮ জন।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘কোটিপতি আমানতকারী বাড়ার ফলে সমাজে একটি বিশেষ শ্রেণি ক্রমেই ধনী হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সমাজে বৈষম্যও বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো না থাকায় অনেকেই ব্যাংকে টাকা জমা রাখছেন। বছর অন্তর সেই টাকা বাড়ছে। ডাবল স্কিমে রাখা আমানতগুলো এখন কোটিপতির সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ১৫৪ জন।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি ছিলেন মাত্র পাঁচজন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ জনে। জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে (ডিসেম্বর ১৯৮০) এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৮ জনে। তখন তাদের আমানতের পরিমাণ ছিল ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের ১০ শতাংশ। এরশাদ সরকারের পতনের সময় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪৩ জন। তাদের আমানত ছিল মোট আমানতের ১২ শতাংশ।

১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৯৪। আমানতের পরিমাণ ছিল সাড়ে ২০ শতাংশ। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৬২ জনে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ২ বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (২০০৭-০৮) কোটিপতি ছিলেন ৫ হাজার ১১৪ জন। এরও আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১- ২০০৬) কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৮৮৭ জনে।

২০০৮ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার ওপরে হিসাব সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০০৯ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ১৩০টি। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫৩৭টিতে।

Check Also

কৃষিপণ্য উৎপাদনে দেশ এগিয়েছে বহুদূর

অনলাইন ডেস্ক : স্বাধীনতার ৪৬ বছরে কৃষিক্ষেত্রে দেশ বহুদূর এগিয়ে গেছে। ১৯৭০ সালের আগে বাংলাদেশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *