Saturday , November 25 2017
শিরোনাম
হোম / ব্যবসা বানিজ্য / অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা

অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা

অর্থনীতি ডেস্ক : আমদানি বাড়িয়েও চালের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না। দুই দফা বন্যা ও সরকারি মজুদ কমার খবরে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। বাজারের এ অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে তারা চালের রফতানি মূল্য বাড়িয়েছেন টনপ্রতি ৬০-৭০ ডলার। ঋণপত্রে (এলসি) নির্ধারিত মূল্যে চাল না পাওয়ায় ব্যাংক থেকে তা সংশোধন করতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানি হয় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। এ বন্দরের আমদানিকারকরা জানান, দুদিন আগেও ভারত থেকে তারা চাল আমদানি করেছিলেন প্রতি টন ৪৮০-৫০০ ডলারে। এখন সেখানে চাওয়া হচ্ছে ৫৬০-৫৭০ ডলার। কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়ালেও গত কয়েক দিনে বাড়িয়েছেন অস্বাভাবিক বেশি।

বাংলাদেশের বাড়তি চাহিদার কারণেই যে রফতানি মূল্য বাড়ছে, তা স্বীকার করছেন দেশটির ব্যবসায়ীরাও। পুনেভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দ্রুত চাল সরবরাহ চাইছেন। এটা সম্ভব কেবল ভারতের পক্ষেই। এ কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে প্রচুর রফতানি আদেশ পাচ্ছেন।

বাড়তি চাহিদার সুযোগে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও চালের দাম টনপ্রতি ১০ ডলার বাড়িয়েছিলেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। আর গত তিন মাসের হিসাবে বেড়েছে ১০০-১২০ ডলার।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত চাল আমদানি করেন হারুন উর রশীদ হারুন। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপেরও সভাপতি তিনি। জানতে চাইলে বলেন, বাংলাদেশে চালের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় দাম বাড়াচ্ছেন। দেশের আমদানিকারকরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। যে দামে চাল আমদানির জন্য ঈদের আগে এলসি খুলেছিলাম, সে দামে আর রফতানি করতে চাইছেন না তারা। বাধ্য হয়ে ব্যাংক থেকে এলসি সংশোধন করতে হচ্ছে।

রফতানি মূল্য বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। হিলি স্থলবন্দরে গতকাল ভারত থেকে আমদানি করা স্বর্ণা ও রত্না

চাল পাইকারিতে (ট্রাক সেল) বিক্রি হয় ৪৫-৪৬ টাকা কেজিদরে। দুদিন আগেও এসব চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৪১-৪২ টাকা। একই চাল ঈদের আগে বিক্রি হয়েছিল ৩৮-৪০ টাকা কেজিদরে।

এলসিতে উল্লেখিত দরে চাল পাচ্ছেন না ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারকরাও। তারা বলছেন, অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রফতানি মূল্য টনপ্রতি ৭০-৭৫ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তার পরও কাঙ্ক্ষিত চাল পাওয়া যাচ্ছে না।

ভোমরা স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরডি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী পঙ্কজ কুমার দত্ত বলেন, টনপ্রতি ৭০-৭৫ ডলার বাড়তি মূল্যেও চাল দিতে চাইছেন না ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশী আমদানিকারকরা।

ভারতীয় চাল হিলি ও ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হলেও ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে আসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এসব দেশেও চালের রফতানি মূল্য কিছুটা বেড়েছে। তবে তা ভারতের মতো অস্বাভাবিক হারে নয়।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চাল আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, বেশ কিছুদিন আগে বিশ্ববাজারে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে ছিল। এক-দেড় মাস ধরে দাম বাড়ছে। থাইল্যান্ড থেকে চাল আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে টনপ্রতি ৪৬০-৪৬৫ ডলার। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একযোগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানির খোঁজখবর নিতে থাকায় দাম নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান চাল রফতানিকারক জেলাগুলোর অন্যতম বর্ধমান, মালদহ, হুগলি, বিহার, বীরভূম ও মেদিনীপুর। সম্প্রতি এসব জেলায় চালের সরবরাহ কমে আসায় পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন আমদানিকারকরা। সড়কপথের সিংহভাগ চাল হিলি স্থলবন্দর দিয়ে এলেও ট্রেনের চাল দর্শনা ও বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশে। তবে রেলের ইঞ্জিন সংকটেও চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দর্শনা ও বেনাপোলের অন্য প্রান্তে ভারতীয় অংশে চালের মজুদ নিয়ে প্রায় ২০টি র্যাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিটি র্যাকে প্রায় ৪০টি ওয়াগন রয়েছে। চালবাহী এসব ওয়াগন দেশে প্রবেশ করতে না পারায় সরবরাহ সে হারে বাড়ছে না।

যশোরের নওয়াপাড়ার চাল আমদানিকারক আবদুল ওহাব বলেন, এসব চাল দ্রুত খালাস করতে না পারায় নতুন করে আমদানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার ১০-১৫ দিন বসে থাকার কারণে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় বা ইঞ্জিন সংকটের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাবিবুর রহমান। তার পরও এ ব্যাপারে খোঁজ নেবেন বলে জানান তিনি।

Check Also

বিশ্বমানের গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকদের জন্য গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ইউজিসির

অনলাইন ডেস্ক : দেশে দক্ষ ফ্যাকাল্টি তৈরির উদ্দেশ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্বমানের একটি গবেষণা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *