Tuesday , November 21 2017
হোম / আন্তর্জাতিক / মিয়ানমারে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বন্ধের প্রস্তাব জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের

মিয়ানমারে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বন্ধের প্রস্তাব জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ কয়েকজন আইনপ্রণেতা।রাখাইন রাজ্যে চলমান পরিস্থিতিতে তাদের এই পদক্ষেপ  মিয়ানমারকে অনেক শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তারা। প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন, হাউস ডেমোক্রেটিক ককাস চেয়ারম্যান জো ক্রাউলি এবং কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট মিয়ানমারে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা বন্ধের পক্ষে নিজেদের এই অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন ২০১৮ অর্থ বছরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে মিয়ানমারের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন। অথচ এর আগে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার আসায় ম্যাককেইনই তাদের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ছিলেন। সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির প্রধান ম্যাককেইন বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম মিয়ানমারে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে এনডিএএ, কিন্তু এমন মানবিক সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর এখন আর আমি তাদের মঙ্গে সামরিক সম্পর্কে যাওয়া সমর্থন করতে পারি না।’ তিনি বলেন, ২০১৫ নির্বাচনের পর খুবই ‍উৎসাহী ছিলেন তিনি। তারা বিশ্বাস করতেন বেসামরিক সরকার দেশকে অন্যভাবে পরিচালিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে। এজন্যই সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির এক প্রস্তাকে দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো বলে জানান তিনি। তবে পরিস্থিতি এখন পাল্টে গেছে তাই এনডিএএকে এখন আলোচনা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত এক মাসেই মিয়ানমার থেকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘ একে জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ম্যাককেইন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংকট সমাধানে অং সান সু চিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অনেকদিন ধরেই গণতন্ত্রের জন্য অনুপ্রেরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।’

হাউস ডেমোক্রেটিক ককাস চেয়ারম্যান জো ক্রাউলি ও কংগ্রেসম্যান স্টিভ চ্যাবট জানান, তারা রাখাইন রাজ্যে চলমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত। তারা বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে কোনও সম্মান দেখাচ্ছে না। অত্যাচারের শিকার হয়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এই ঘটনায় আমার গভীরভাবে উদ্বিগ।’  তার বলেন, খুব দ্রুতই এখানে মানবিক সংকট দেখা গেছে। এই সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত। মিয়ানমারে চলমান এবং ভবিষ্যতের মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ বন্ধ করে মিয়ানমারকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা দেওয়া উচিত যে এমন চলতে পারে না।
শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা অবশ্য সু চি’র বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিতে রাজি না। সিনেট মেজরিটি লিডার মিজ ম্যাককনেল ক্যাপিটল হিলের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক উদ্দেশে বলেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থঅ নেওয়ার পক্ষপাতী নই। আমি মনে করি এই সংকট সমাধানে তিনিই সবচেয়ে বড় আশা।’ তিনি বলেন, ‘সামরিক স্বৈরতন্ত্রের মিয়ানমার এখন যেখানটায় অবস্থান করছে, সেখান থেকে একে প্রত্যাশার পথে এগিয়ে নিতে সু চি’ই সবথেকে বড় ভরসার জায়গা।’ তার মতে, এই মুহূর্তে সু চি অনেক বিপাকে রয়েছেন। সবাই তাকেই দোষারোপ করছেন। তার দিকেই আঙুল তুলছেন। সু চির বিপদে মিয়ানমারের বিপদ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

 

Check Also

রেজ্যুলেশন ২৪২ এর ৫০ বছর, কী ভাবছেন ফিলিস্তিনিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা দখল করে ইসরায়েল। নিয়ন্ত্রণে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *