Thursday , September 21 2017
হোম / ব্যবসা বানিজ্য / রাজনৈতিক স্থিতি ও স্থানীয় বাজার সুবিধা আকৃষ্ট করছে চীনের বিনিয়োগকারীদের

রাজনৈতিক স্থিতি ও স্থানীয় বাজার সুবিধা আকৃষ্ট করছে চীনের বিনিয়োগকারীদের

অর্থনীতি ডেস্ক :  রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৃহত্তম স্থানীয় বাজার সুবিধার কারণে চীনের বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর চেয়ে অধিক আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী এক চীনা শিল্পপতি কাইচুনলেই বাসস’কে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে চীনের শিল্পপতিরা বিনিয়োগের জন্য অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশকে অধিক পছন্দ করছে।’
তিনি গাজীপুরে অবস্থিত সম্পূর্ণ চাইনিজ মালিকানাধীন পান্ডা সুজ নামক একটি জুতা তৈরি কারখানার অন্যতম স্বত্ত্বাধিকারী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এই কারখানাটি বছরে তিন লাখ জুতা উৎপাদন করছে, যেখানে প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় কর্মচারী রয়েছে। ‘এখানে সস্তা শ্রমিক একটি বিষয়, তবে এটাই বিনিয়োগের মূল কথা নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানত দু’টি কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছি, যার একটি হচ্ছে দু’টি দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অপরটি হচ্ছে বাংলাদেশে ব্যাপক স্থানীয় বাজার রয়েছে।’ তিনি জানান, তার কোম্পানি গত চার বছর আগে এই কারখানা তৈরিতে ১ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে কারখানার নতুন একটি ইউনিটের নির্মাণকাজ চলছে। এর নির্মাণ শেষ হলে উৎপাদন দ্বিগুণ হবে এবং স্থানীয়দের আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এই চাইনিজ উদ্যোক্তা বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রচুর এবং ক্রমান্বয়ে দেশটির অর্থনীতির উন্নতি হওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণের কাছে কম দামে গুণগত মানসম্পন্ন জুতা সরবরাহ করা। বাংলাদেশের সব মানুষ যেন ওইসব ভাল জুতা পরতে পারে আমি সেই স্বপ্ন দেখি।’ এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে কম দামে মাত্র পাঁচশ’ টাকার মধ্যে গুণগতমানের জুতা সরবরাহ করার পরিকল্পনার কথাও জানান পান্ডা সুজ-এর এই স্বত্ত্বাধিকারী। বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে কাইচুনলেই ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, ২০ বছরের কম সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ আজকের চীনের মতো অবস্থায় পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, ‘এমনকি ৩০ বছর আগেও বাংলাদেশ এখন যে পর্যায়ে আছে, চীন তাই ছিল। আমি মনে করি বাংলাদেশ মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই উন্নত দেশে পরিণত হবে।’
চাইনিজ শিল্পপতি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উন্নয়নে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক সংযোগ উন্নয়নের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এদেশে ব্যবসা ছাড়াও কিছু সমাজকর্মমূলক কাজ করে থাকি। যেমন, আমরা প্রত্যেক বছর স্থানীয় গরীব ছাত্রদের মাঝে বিনামূল্যে জুতা বিতরণ করি।’ তিনি জানান, সম্প্রতি পান্ডা সুজ বন্যাকবলিত একটি সড়কে অস্থায়ী ব্যবস্থায় একটি সেতু নির্মাণ করে দেয়, যার মাধ্যমে ১০ হাজারের মতো বন্যার্ত মানুষ উপকৃত হয়। এই অস্থায়ী সেতু তৈরিতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয় বলে তিনি জানান। বাংলাদেশে ব্যবসা করায় সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এই কাজ করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Check Also

শীর্ষ করদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ফাঁকিরও অভিযোগ

অর্থনীতি ডেস্ক : ভ্যাট বাবদ সরকারের রাজস্বের প্রায় ৪০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে বিভিন্ন খাতের ছয়-সাতটি প্রতিষ্ঠান। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *