Tuesday , September 26 2017
হোম / সারা বাংলা / চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ

চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক : চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্ষমতাসীন দলের শ্রমিক সংগঠনের নামে ছাপা রশিদে এই চাঁদা আদায়কে বেআইনি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান আমদানি পণ্য পরিবহন করে সারা দেশে। এসব ট্রাক থেকে ৫০ টাকা এবং কাভার্ড ভ্যান থেকে ১০০ টাকা হারে রশিদ কেটে টোলের নামে চাঁদা আদায় করছে চট্টগ্রাম ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।

শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা নগরীর মনিকা সড়কে কইস্যাপুকুর পাড়ে বন্দর উড়াল সেতুর গোড়ায় অবস্থান করে প্রতিদিন এই চাঁদাবাজি করছে। এতে প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন কর্মী নিযুক্ত করা হয়েছে। যারা জোর খাটিয়ে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে থাকে।

আলাপকালে কয়েকজন কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক চালক জানান, বন্দরের কোথাও বৈধ কোনো টোল কেন্দ্র নেই। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে টোলের নামে চাঁদা আদায় করছে শ্রমিক সংগঠনটি। দাবি করা চাঁদা না দিলে নিযুক্ত কর্মীরা গাড়ি আটকে রেখে চালকদের লাঞ্ছিত করে। ফলে ভয়ে চাঁদা দিতে বাধ্য হয় চালকরা।

নাজির হোসেন নামে এক ট্রাক চালক জানান, গত ২০ বছর ধরে তিনি বন্দর থেকে বিভিন্ন আমদানি পণ্য সারা দেশে পরিবহন করছেন। কিন্তু গত সাত থেকে আট বছর ধরে মনিকা সড়কে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা দিয়ে আসছে। এর আগে বন্দরের কোথাও এ ধরনের চাঁদাবাজি ছিল না। শুরুর দিকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গাড়ি আটকে রেখে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি চাঁদা নয়, নিরাপত্তা টোল। সরকার পরিবহণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। তাই নিজেদের উদ্যোগে শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে তাদের বেতন দেয়ার জন্য ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘টোল আদায়ে বন্দর বা সরকারের কোনো অনুমোদন নেই। তবে শ্রমিক ফেডারেশন আমাদের টাকা তোলার অনুমতি দিয়েছে। তাই আমরা টাকা উত্তোলন করি।’

চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী কমিটির সদস্য আবদুল আজিজ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসাবে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান থেকে টাকা তোলা হয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘বন্দরে আসা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান সুরক্ষার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের একক জনের দৈনিক বেতন ৬০০ টাকা। এ ধরনের ১৮ জন শ্রমিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বেতন দেয়ার জন্য কিছু টাকা উত্তোলন করা হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক নেতা বলেন, ‘প্রায় দুই  হাজার কাভার্ড ভ্যান এবং ট্রাক থেকে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আদায় হয়। এ টাকার কিছু অংশ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় দিতে হয়। বাকি টাকা ইউনিয়নের নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগভাটোয়ারা করে নেয়।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাঈনুল ইসলাম বলেন, ‘মনিকা সড়কে বন্দরের পরিবহনে শ্রমিক সংগঠনের টোলের নামে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আরেফিন জুয়েল বলেন, ‘কোনো সংগঠন কিংবা ব্যক্তির নামে চাঁদা উত্তোলন করা অপরাধের মধ্যেই পড়ে। যারা এ ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Check Also

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ইসলামিয়া মডেল পাইলট উ”চ বিদ্যালয় জাতীয় করণের দাবিতে মানবন্ধন ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *