Sunday , September 24 2017
হোম / সারা বাংলা / ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিজমিতে দিনদিন বাড়ছে ইটভাটা

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিজমিতে দিনদিন বাড়ছে ইটভাটা

অনলাইন ডেস্ক : ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিজমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইটভাটা। এসব ভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের কারণে যেমন ফসল ও প্রাণীর ক্ষতি হচ্ছে, সেই সাথে ইট তৈরির মাটি জোগান দিতে কেটে নেয়া হচ্ছে জমির উর্বর মাটি, যাকে ‘টপ সয়েল’ বলা হয়।

জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, ফসলি জমিতে যেন কেউ ইটভাটা নির্মাণ করতে না পারে, সে বিষয়ে দ্রুত জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসনের হিসাব মতে, ঠাকুরগাঁও জেলার সদর, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুরসহ পাঁচ উপজেলায় প্রায় ৭০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০টি ভাটার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র রয়েছে। বাকিগুলো অবৈধ এবং এই অবৈধ ইটভাটায় ইট পোড়াতে কাঠখড়ি ও কয়লা ব্যবহার করা হয়।

এদিকে আগামী মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে এখনি নতুন নতুন ভাটা তৈরির কাজ চলছে। যেখানে পুরানো ভাটাগুলোরই বেশির ভাগের নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচাঁ ইউনিয়নে নীমবাড়ি এলাকায় এলজিইডির লিলু বাগানের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠছে একটি ইট ভাটা। এর মধ্যেই চিমনী তৈরির কাজ চলছে।

ভাটার মালিক রমজান আলী জানান, ইটভাটার জন্য আবেদন করেছেন। তবে এখনো কাগজ হাতে পাননি। ভাটায় আগুন দেয়ার আগেই সব কাগজপত্র পাবেন বলে আশাবাদ জানান।

আকচাঁ ইউনিয়নের দক্ষিণ বঠিনা গ্রামের মর্জিন শর্মা, জয়নাল, সুধীর চন্দ্রসহ বেশ কয়েকজন জানান, দিনদিন কমছে তাদের ইউনিয়নের আবাদি জমি। প্রথম কারণ ইটভাটা আর ২য় কারণ পার্ক। যেই পারছে নির্মাণ করছে ইটভাটা আর পার্ক। আবাদি জমিগুলো চলে যাচ্ছে ইটভাটার পেটে।

তারা আরো জানান, ভাটা মালিকরা প্রভাবশালী। প্রতিবাদ করতে গেলেই হুমকি-ধমকি দেন। ভাটার কারণে আশপাশের জমির ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাটার মাটি জোগান দিতেও জমির টপ সয়েল তুলে নিয়ে যায় ভাটা মালিকরা। এতে আবাদি জমি হচ্ছে  অনুর্বর। এখানকার কৃষকরা বেশিরভাগই অশিক্ষিত। তারা না বুঝেই ভাটা মালিকদের কাছে বিক্রি করছেন জমির টপ সয়েল বা উর্বরতম অংশ।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের তথ্য মতে, আকচা ইউনিয়নে ১৩টি ইটভাটা রয়েছে। তার উপর নতুন করে তিনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে এবং চলছে। নতুন করে গড়ে ওঠা ভাটা বন্ধে উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরই নতুন নতুন ইটভাটা নির্মাণ করে চলেছে। কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ বন্ধ করতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় অভিযোগও করেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র নিয়ে এখানে ইটভাটা তৈরিতে তেমন কোনো আগ্রহই নেই এখানকার ভাটা মালিকদের। আর ছাড়পত্র ছাড়া কেউ ভাটা বানালে করলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রতিবার ভাটায় আগুন দেয়ার সময় জেলা প্রশাসন উন্নয়নমূলক কাজের অজুহাতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভাটা চালানোর অনুমতি দেয়। তখন অবৈধ ভাটাগুলোই বৈধতা পায়।

এদিকে লোকালয়ের সন্নিকটে এবং ফসলি জমির মাঠে ইটভাটা হওয়ার কারণে কৃষি জমির উৎ্পাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মাউদুদুল ইসলাম  জানান, কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের কোন বিধানই নেই। কাজেই নতুন করে ইটভাটা নির্মাণের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জেলা সমন্বয় কমিটিতে তোলা হবে।

Check Also

সাভারে অফিসের স্টোর রুমে আনসার সদস্যের লাশ

অনলাইন ডেস্ক : সাভারে সিরাজুল ইসলাম নামে এক আনসার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *