Sunday , September 24 2017
হোম / রাজধানী / টাকা দিলেই মেলে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

টাকা দিলেই মেলে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স

ঢাকার ডাক ডেস্ক :  বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বিতরণ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।

গত মার্চ মাস থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ট্রাভেল এজেন্সির চাহিদার প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এই জালিয়াতি করে আসছিল চক্রটি।

অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমন এক জালিয়াতি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোসলেম মিয়া, শাহ আলম কবির, আশিকুর রহমান ও আব্দুর রহিম। তাদের কাছ থেকে ১৬১২টি জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৯টি নকল সিল, নোটারি পাবলিকের ৩টি অ্যাম্বুস সিল, বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) ৬১৭টি সিল, ৩টি পাঞ্চ মেশিন, ২টি কম্পিউটার এবং ১টি প্রিন্টার জব্দ করা হয়।

রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, অনেক সাধারণ মানুষ না বুঝে এই চক্রের কথায় টাকা দিয়ে ভুয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়েছে। প্রেসে ছাপিয়ে তা চালিয়ে দিত তারা। এতে কোনো ধরনের বারকোড অনুসরণ করা হতো না। একই বারকোডে সব পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি করেছে চক্রটি।

তিনি জানান, গত মার্চ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ট্রাভেল এজেন্সির চাহিদা অনুযায়ী অর্থের বিনিময়ে এই জালিয়াতি করে আসছিল চক্রটি।

আব্দুল বাতেন বলেন, বাংলাদেশ থেকে চাকরি বা অন্য কোনো কারণে বিদেশ গমনেচ্ছুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পুলিশ ক্লিয়ারেন্স। মাত্র ৫০০ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে আবেদন করলেই ২/৩ দিনের মধ্যেই তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাচ্ছেন যে বাংলাদেশি নাগরিক। এজন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস খুলেছে পুলিশ। অনলাইনেও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আবেদনের পর থানার ওসি ও এসপির স্বাক্ষরের পর খোঁজ-খবর নেওয়া হয়। কোনো মামলার দাগী আসামি বা ফৌজদারি মামলা না থাকলে ক্লিয়ারেন্স পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখান থেকে ২/৩ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় চলে আসে। সেখান থেকে পুলিশের মাধ্যমে তা পান আবেদনকারী।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জালিয়াত চক্র টাকার বিনিময়ে সব কাজ নিজেরা ঘরে বসে করে দিতে চেয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি বড় ধরনের অপরাধ। বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে।

এ ধরনের প্রতারক চক্রের কাছে না গিয়ে সরাসরি পুলিশের মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে অনুরোধ জানান তিনি।

Check Also

সাইনবোর্ডেই ঝুলছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নিরাপত্তা

অনলাইন ডেস্ক : ‘বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।’ ‘গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩০ কি.মি.।’ ‘রাস্তা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *