Saturday , September 23 2017
শিরোনাম
হোম / রাজধানী / ফ্লাইওভার নগরের গতি কমাচ্ছে কি?

ফ্লাইওভার নগরের গতি কমাচ্ছে কি?

ঢাকার ডাক ডেস্ক : যানজট কমাতে গত একযুগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীতে নির্মাণ করা হয়েছে ডজনখানেক ফ্লাইওভার। যদিও যানজটের ভোগান্তি কমেনি এ দুই নগরের বাসিন্দাদের— উল্টো বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, এক দশকে রাজধানীতে যানবাহনের গড় গতিবেগ ২১ কিলোমিটার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ কিলোমিটারে। অপ্রতুল রাস্তাঘাট, দুর্বল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অপরিকল্পিত ফ্লাইওভারের কারণে সৃষ্ট যানজটকে এর কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

নগরের যানজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর শুধু রাজধানীতেই নির্মিত হয়েছে সাতটি ফ্লাইওভার। এর মধ্যে একটির কাজ অবশ্য আংশিক বাকি আছে। চট্টগ্রাম নগরীতে নির্মাণ করা হয়েছে আরো তিনটি ফ্লাইওভার। এসব ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে  ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই এসব ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে নগরীতে যানজট না কমে তীব্র হচ্ছে বলে মনে করেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, উন্নত দেশগুলো কখনই শহরের ভেতরে ফ্লাইওভার নির্মাণ করে না। অথচ আমাদের সেটাই হয়েছে। গাড়ির অতিরিক্ত চাপ থাকলে ফ্লাইওভারের উপর ও নিচে সবদিকেই যানজট শুরু হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো গণপরিবহনকে গুরুত্ব দেয়া।

১৯৯৯ সালের ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের (ডিটিসিবি) সমীক্ষার ভিত্তিতে ২০০১ সালের ১৯ ডিসেম্বর শুরু হয় মহাখালী ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ। ১ দশমিক ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি ২০০৪ সালের নভেম্বরে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এটি নির্মাণে ব্যয় হয় ১১৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খিলগাঁও ফ্লাইওভারটিও নির্মাণ করা হয় ডিটিসিবির সমীক্ষার ভিত্তিতে। ৮১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০১ সালের জুনে। আর যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় ২০০৫ সালের মার্চে।

১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বিজয় সরণি-তেজগাঁও ওভারপাসের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৭ সালের আগস্টে। ২০১০ সালের ১৬ এপ্রিল উদ্বোধনের পর ওইদিনই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ৮০৪ মিটার দীর্ঘ ওভারপাসটি।

রাজধানীর বনানী লেভেল ক্রসিং এলাকার যানজট নিরসনে ২০১০ সালের মার্চে বনানী ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১১ সালের জানুয়ারিতে। ১১২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওভারপাসটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে।

গুলিস্তান থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৯৯৮ সালে। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার নামে পরিচিত এ ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১০ সালের ২২ জুন। ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের অক্টোবরে এটি উদ্বোধন করা হয়।

সর্বশেষ নির্মিত মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভারের একাংশ এরই মধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে। পুরো ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটির নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ৪৪৬ কোটি টাকা ধরা হলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ২১৮ কোটি টাকা। ফ্লাইওভারটির তেজগাঁও-পান্থপথ লিংক রোডের অংশটি এফডিসি গেটের পরিবর্তে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত গিয়ে সড়কে নামবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশোধন করা হয়। এজন্য নতুন করে ৪৫০ মিটার অংশ সংযোজন করা হয়েছে। সবমিলে এ ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার।

যানজট কমিয়ে যানবাহনের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে ফ্লাইওভারগুলো নির্মাণ করা হলেও ফল হয়েছে উল্টো। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ বছর আগেও রাজধানীতে যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। বর্তমানে তা ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটারে নেমে এসেছে, যা

মানুষের হাঁটার গতির চেয়ে সামান্য বেশি। মানুষের হাঁটার গতি ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটারের ওপর। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২৫ সাল নাগাদ মানুষের হাঁটার গতির চেয়েও নিচে ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটারে নেমে আসবে যানবাহনের গতিবেগ।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল অঞ্চলের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, যানজটের কারণেই গতির এ করুণ অবস্থা। ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ নাগাদ এ সংখ্যা হবে ৩ কোটি ৫০ লাখ। বিরাট এ জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে ঢাকার উন্নয়নে অবশ্যই সঠিকভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন, সমন্বয় সাধন ও বিনিয়োগ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে প্রথম ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে। ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৩ সালে। মাঝে ২০১২ সালে নির্মাণত্রুটিতে ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে ১৩ জন নিহত হন।

বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ২০১২ সালে শুরু হয় কদমতলী ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ। ১ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি নির্মাণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ব্যয় করে ৫৮ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে ফ্লাইওভারটি উদ্বোধন করা হয়।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘ আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি চলতি বছরের জুলাইয়ে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। শেষ সময়ে এসে ফ্লাইওভারটিতে একটি লুপ ও চারটি র্যাম্প সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যার কাজ এখনো চলছে। সবমিলে ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

Check Also

উখিয়ায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনে কাজ শুরু করছে সেনাবাহিনী

অনলাইন ডেস্ক :  উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিতরণে কাজ শুরু করেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *