Friday , November 24 2017
শিরোনাম
হোম / জাতীয় / আগামী বছর ঢাকায় জলাবদ্ধতা হবে না: সংসদে প্রশ্নোত্তর

আগামী বছর ঢাকায় জলাবদ্ধতা হবে না: সংসদে প্রশ্নোত্তর

অনলাইন ডেস্ক : আগামী বছর থেকে রাজধানী ঢাকায় জলাবদ্ধতা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে। আগামী বছর থেকে ঢাকায় হাঁটুপানি থাকবে না।

রবিবার (১২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গাঁ এ কথা বলেন। এর আগে ঢাকা থেকে নির্বাচিত কাজী ফিরোজ রশীদ ঢাকার জলাবদ্ধতা, যানজট ও সুপেয় পানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকার বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি হয়ে যায়। মানুষ চলাচল করতে পারে না। সাবেক এই মন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজধানীতে বাংলা ফ্লাইওভারগুলোর ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যেন যানজট হয়। নতুন নতুন ফ্লাইওভার হচ্ছে আর নগরীতে যানজটের রাজত্ব কায়েম হচ্ছে। এ সময় মানুষকে আশ্বাস না দিয়ে,স্বপ্ন না দেখিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কী করবে তা জানতে চান তিনি।

জবাবে ফিরোজ রশীদকে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে আশ্বাস দিতে হবে। স্বপ্নও দেখাতে হবে। বর্তমান সরকার যেমন মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছে তেমনি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নও করেছে। সুপেয় পানির প্রাপ্যতা মানুষের মৌলিক অধিকার। সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি ডোনার দেশের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে গেছে। এই সুপেয় পানির জন্য আমাদের আর একটি বছর সময় দিতে হবে।’

এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত স্থানে কন্টেইনার/ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও কতিপয় অসচেতন নগরবাসী নিজেদের সুবিধামতো স্থানে বর্জ্য ফেলে রাখায় সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সড়কে জনসাধারণের চলাচলের স্থানে বর্জ্যের স্তূপকে সাময়িকভাবে যানজট সৃষ্টি করছে। নগরীর পরিবেশ রক্ষার্থে সিটি করপোরেশন বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় এ ধরনের বর্জ্যের স্তূপকে নিয়মিতভাবে অপসারণ করে আসছে।’

সড়কের ওপর খোলা কন্টেইনার রাখার বিষয়টি করপোরেশন নীতিগতভাবে অনুমোদন করে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জাইকার সহযোগিতায় ঢাকা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি প্রণয়নসহ এর সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে নগরীকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি স্বস্তিদায়ক নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৩০টির মতো কন্টেইনার রাস্তার ওপর থেকে অপসারণ করে ৫২টি পরিবেশবান্ধব সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এটিএস) নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও ৫০টির মতো কন্টেইনার রাস্তার ওপর বাধ্য হয়ে রাখতে হচ্ছে। এসটিএস নির্মাণের জায়গা পাওয়া গেলে এই কন্টেইনারগুলো রাস্তার ওপর থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

মানিকগঞ্জ-২ আসনের মমতাজ বেগমের প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ১৩ কোটি ৯২ লাখ (৮৭%) মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা ভোগ করছে। এছাড়া, ৯৯ শতাংশ মানুষ মৌলিক স্যানিটেশনের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ জনগণ উন্নত, ২৮ শতাংশ যৌথ ল্যাট্রিন ও ১০ শতাংশ অনুন্নত ল্যাট্রিন ব্যবহার করেন।

চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১২ শতাংশ জনগণ আর্সেনিক দূষণজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংসদ সদস্যের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসনের লক্ষ্যে ‘পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প’ একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় সারা দেশের আর্সেনিক দূষণের বর্তমান পরিস্থিতি জানা যাবে। একইসঙ্গে, ৩১ জেলার ১১৭ উপজেলায় আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি নিশ্চিত হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

Check Also

শিশু হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে বাংলাদেশেই

অনলাইন ডেস্ক : ঝিনাইদহ থেকে ২ বছরের মেয়ে লামিসাকে নিয়ে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *