Saturday , November 25 2017
শিরোনাম
হোম / শিল্প ও সাহিত্য / জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯ তম জন্মবাষির্কী আজ

জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯ তম জন্মবাষির্কী আজ

সাদিয়া আক্তার : বাংলা সাহিত্যের জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। বিংশ শব্দাতীর বাঙালী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। বহুমাত্রিক সৃজনশীলতায় উদ্ভাসিত এক নাম। একের ভেতর বহুর সম্মিলন।তিনি গল্পের সেই পরশপাথর, যেখানে হাত দিয়েছেন সোনা ফলিয়েছেন। তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, চিত্রশিল্পী, চলচ্চিত্রকার, ও গীতিকার । কথাসাহিত্যের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের আজ ৬৯ তম জন্মবাষির্কী। হুমায়ূন আহমেদ নন্দিত এক নাম। যার পৈতৃক ভিটা নেত্রকোনার এক নিভৃত পল্লীতে। হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ই নভেম্বর) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোনা মহকুমার মোহনগঞ্জের তার মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। তার পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও (উপ-বিভাগীয় পুলিশ অফিসার )হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিভাবে বেঁচে যান। তার বাবা সাহিত্য অনুরাগী মানুষ ছিলেন। তিনি পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করতেন । বগুড়া থাকার সময় তিনি একটি গ্রন্থও প্রকাশ করেছিলেন। গ্রন্থের নাম ‘দ্বীপ নেভা যায় ঘরে’। তার মা’র লেখালেখির অভ্যাস না থাকলেও একটি আত্মজীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম ‘জীবন যে রকম’। পরিবারে সাহিত্যমনস্ক আবহাওয়ায় ছিল। তার অনুজ মহুম্মদ জাফর ইকবাল দেশের একজন বিজ্ঞান শিক্ষক এবং কথাসাহিত্যিক ; সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা আহসান হাবীব রম্যসাহিত্যিক এবং কার্টুনিস্ট।
তার বাবার চাকরী সূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেছেন বিধায় হুমায়ূন আহমেদ দেশের বিভিন্ন স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন। পরে তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই বিজ্ঞানে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যয়ন করেন এবং প্রথম শ্রেনীতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি মহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন এবং ৫৬৪ নং কক্ষে তার ছাত্রজীবন অতিবাহিত করেন। পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ভাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি লাভ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রথম বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী তোমাদের জন্য ভালোবাসা রচনা করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। লেখালেখিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এক সময় তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। শিক্ষক হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এই অধ্যাপক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে একটি নীতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য জীবনের শুরু। এই উপন্যাসটির নাম ‘নন্দিত নরকে’ । ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭২-এ কবিসাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি খান ব্রাদার্স কর্তৃক গ্রন্থকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত বাংলা ভাষাশাস্ত্র পন্ডিত আহমদ শরীফ স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে এ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখে দিলে বাংলাদেশের সাহিত্যামোদী মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।‘শঙ্খনীল কারাগার’ তার দ্বিতীয় গ্রন্থ। তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনশত বাইশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সত্তর দশকের শেষভাগে থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তার গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত। তার সৃষ্টি হিমু ও মিসিরআলি ও শুভ্র চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছেন। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীও তার সৃষ্টি কর্মের অন্তর্গত ।ধরা হয় বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনপ্রিয়তা তিনি শুরু করেন। তার রচিত প্রথম সায়েন্স ফিকশন “তোমার জন্য ভালবাসা” তার নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তার টেলিভিশন নাটকগুলি ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশি না হলেও তাঁর রচিত গানগুলোও সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন। জোসনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি। তার নির্মিত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো দুই দুয়ারী,শ্রাবণ মেঘের দিন,ঘেটুপুত্র কমলা ইত্যাদি।
হুমায়ূন আহমেদের প্রথমা স্ত্রীর নাম গুলতেকিন আহমেদ। তাদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে। এই দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলে। তিন মেয়ের নাম নোভা আহমেদ, শিলা আহমেদ ও বিপাশা আহমেদ এবং ছেলে নুহাশ আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের জীবন-যুদ্ধের সাফল্যতার পিছনে তার প্রথমা স্ত্রীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। হুমায়ূন আহমেদ নিজেই তা বলেছেন। কিন্তু মানুষের মন বলে কথা আর এই মনের যে কখন কি হয়ই বা কি চাই তা বোঝা বড়ই মুশকিল। তাই তো ২০০২ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। গুলতেকিনের সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার কারণে মেয়েরা তার বাবার সাথে কোনো যোগাযোগ রাখতো না। এতে হুমায়ূন আহমেদ খুব কষ্ট পেতেন, তাই তিনি লিখেছিলেন, শিলা যখন ছোট তাকে নিয়ে আমার এক বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের রাত কাটাতে হয়, আমরা তাবু টাঙিয়ে রাত কাটায়। ঐ রাতে শিলার শ্বাস কষ্ট হয় আমি থাকে বাইরে আনি এবং সারারাত বুকের উপরে রাখি। তখন শিলা আমাকে বলেছিল, তুমি পৃথিবীর সেরা বাবা, শিলা হয়তো এখন ভাবে আমি খুব খারাপ বাবা। নুহাশ আহমেদ কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বড় ছেলে। যার নামেই রেখেছিলেন তার পরম আত্মিক জায়গার নামটি নুহাশপল্লী। এই নুহাশই সবসময় বাবার সাথে যোগাযোগ রাখতো। যেতো নুহাশপল্লীতে। বাবার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতো। হুমায়ূন আহমেদ একাকিত্বকে পিছনে হটিয়ে দিয়ে পরে ২০০৫ সালে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাত্তনকে বিয়ে করেন। এ ঘরে তাদের তিন ছেলে-মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। প্রথম ভুমিষ্ঠ কন্যাটি মারা যায়। ছেলেদের নাম নিষাদ হুমায়ূন ও নিনিত হুমায়ূন।
বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন স্যারের আজ ৬৯তম জন্মদিন। দুর্ভাগ্যের কথা এই যে ৬৯তম জন্মদিনে তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। জন্মিলেই মরিতে হইবে এ চরম সত্য কথা। হুমায়ূন স্যারও জন্মের স্বাদ যেমন নিয়েছিলেন, তেমনি মৃত্যুর স্বাদও নিয়েছেন। নাম, যশ-খ্যাতি, সম্মান সবকিছুই আছে শুধু তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। মরণঘাতক ক্যান্সার নামক রোগ এসে ২০১২ সালের ১৯ই জুলাই হুমায়ূন স্যারকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্বজন হারানোর বেদনা বড়ই মর্মান্তিক। ৬৯তম জন্মদিনে আমরা আল্লাহতায়ালার কাছে মোনাজাত করি যেন জান্নাতবাসী করেন। শেষ মুহূর্ত দিয়েই মানুষকে বিচার করতে হয়। কাউকেই সুখী বলা যায় না। যে পর্যন্ত না সমাধি পর্যন্ত সে তার আনন্দকে বহন করে নিয়ে যেতে পারে। আর আমি তো বলবো হুমায়ূন স্যার সুখী একজন মানুষ, স্যার তার সমাধি পর্যন্ত জীবনের আনন্দকে বহন করে নিয়ে যেতে পেরেছে। কথাই আছে ‘চোখের আড়াল তো মনের আড়াল’, হুমায়ূন স্যার আমাদের চোখের আড়াল হয়েছে ঠিকই কিন্তু মনের আড়াল হতে পারেননি। শুধু আমি না বাংলার অজস্র মানুষ তাকে মনের মণি কুঠারে বসিয়ে রেখেছে। আজ তার জন্মদিনও বাংলার মানুষ স্মরণ করবে, পালন করবে। আসলে কিছু মানুষের জন্মই হয় আজন্ম বেঁচে থাকার জন্য হুমায়ূন স্যার তাদের মধ্যে একজন। হুমায়ূন স্যারকে সবশ্রেণীর মানুষ অন্তরের অন্তর স্থল থেকে ভালবাসতো। যারা অশিক্ষিত তারাও টেলিভিশনের মাধ্যমে তাকে চিনতো এবং ভালবাসতো। হুমায়ূন স্যার সাহিত্যের এমনি একব্যক্তি ছিলেন যে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাকে সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এতটুকুও কার্পণ্য করেননি। এমনকি জনপ্রিয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্্েরাপাধ্যায়ের অনেক ওপরে তাকে স্থান দিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদ হুমায়ূন আহমেদই। আমি ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের ১১ তারিখে নুহাশপল্লীতে গিয়েছিলাম সঙ্গে অনেকেই ছিল। তারা সবাই বৃষ্টিবিলাসে বসে ছিল আর আমি আমার মতো করে নুহাশপল্লীটা ঘুরে দেখছিলাম। ঘুরতে ঘুরতে স্যারের সমাধির সামনে চলে আসি। মজার বিষয়টা হলো ,যে মানুষটাকে কখনো আমি দেখেনি শুধু তার বই পড়েছি আর টিভির পর্দায় দেখেছি, অথচ আজ তার কবরের সামনে এক মিনিট নীরবতা পালন করতে গিয়ে আমার চোখ দিয়ে অজ অশ্রু ঝরে যাচ্ছে মনের অজানতে। ‘যে থাকে আঁখি পল্লবে তার সাথে কেন দেখা হবে, নয়নের জলে যার বাস সেতো নয়নে নয়নে, তার সাথে কেন দেখা হবে’। আমারও হয়তো বা সেটাই হয়েছিল। হুমায়ূন স্যার তো আমার আঁখি পল্লবেই আছে এবং তখন আমি বেশি করে অনুভব করলাম হুমায়ূন স্যার আমার অস্তিত্ব জুড়ে আছে আমি যে স্যারের অন্ধ ভক্ত। আমি মনে মনে বলি স্যার কেন এত তাড়াতাড়ি অজানার দেশে পাড়ি দিল। আরো কিছু দিন আমাদের মাঝে থাকতে পারতো । হয়তো আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন অনেক বেশি ছিল। হয়তো তিনি অধিক ভালবাসবেন, স্যারকে জান্নাতবাসী করবেন।
এক যে ছিল ম্যাজিশিয়ান তার যে কত গুণ! নামটা কি তার ? সবাই জানে। নামটা হুমায়ূন। বাঙালিদের হৃদয়জুড়ে তার যে বসবাস, লিখত নাটক কান্না হাসির গল্প উপন্যাস। আকাশ ভেঙ্গে জোসনা পড়া আকুল রাতের গান, পাতার বাঁশি শোনাত সে জুড়িয়ে দিত প্রাণ। সাদাকালো টিভির আমল আহ কী চমৎকার! ‘এইসব দিনরাত্রি’ দিয়ে যাত্রা শুরু তার। নাটক লেখার জন্যে ছিল জাদুকরের হাত, ‘কোথাও কেউ নেই’ অথবা ‘নক্ষত্রের রাত’ ‘আজ রবিবার’ ‘বহুব্রীহি’ কিংবা ‘অয়োময়’, টেলিভিশন পর্দাজুড়ে হুমায়ূনের জয়। ‘পুষ্পকথা’ ‘পাপ’ ও ‘খাদক’ অথবা ‘নিমফুল’, চারটি দশক হুমায়ূনের কান্ড হুলস্থুল!, বাঙালিদের ঘরে ঘরে তার যে অবস্থান, চলচ্চিত্রে হুমায়ূনের অমৃত সন্ধান! তার ‘আগুনের পরশমণি’র ছোঁয়া পেয়ে, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’গুলো ফের উঠেছে গান গেয়ে। ‘দুই দুয়ারী’ ‘চন্দ্রকথা’ কিংবা ‘শ্যামল ছায়া’, হুমায়ূনের হৃদয়জুড়ে মমতা আর মায়া। ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ আর ‘আমার আছে জল’, হুমায়ূনের গুণের কথা কইছে অবিরল… যখন পাব ‘শুভ্র’ ‘হিমু’ ‘মিসির আলি’র দেখা, পড়বে মনে ,এই চরিত্রে হুমায়ূনের লেখা! চান্নি পসর রাতের দেখা কেউ কখনো পেলে, রাখবে জানি হুমায়ূনের স্মুতির পিদিম জ্বেলে… ও হুমায়ূন ম্যাজিশিয়ান কোথায় গেলে তুমি?, তোমার জন্যে কাঁদছে মানুষ! কাঁদছে স্বদেশভূমি!

Check Also

বাংলা সাহিত্যের উৎপত্তি এবং সাহিত্য চর্চাঃ

সাদিয়া আক্তারঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরের অধিক কালেরও পুরানো। এই দীর্ঘ ইতিহাসের পেছনে গভীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *