Friday , November 24 2017
শিরোনাম
হোম / সারা বাংলা / যেসব কৌশলে আসছে ইয়াবার চালান

যেসব কৌশলে আসছে ইয়াবার চালান

অনলাইন ডেস্ক :  দেশের সীমান্ত অঞ্চল থেকে নিত্যনতুন কৌশলে ইয়াবার চালান আসছে রাজধানীর ঢাকায়। প্রতিনিয়তই নতুন ও অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন পণ্যের আড়ালে চালানের পাশাপাশি নিজেদের দেহের ভেতরে ঢুকিয়েও ইয়াবার চোরাচালান নিয়ে আসার প্রবণতা বেড়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও গোয়েন্দাদের তথ্যমতে, কুরিয়ার সার্ভিসে, ওষুধের বোতলে, মাছের পেটে, অ্যাম্বুলেন্সে, পণ্যের কন্টেইনারে, ইলেক্ট্রিক ডিভাইসের ভেতরে লুকিয়ে ইয়াবা বহন করা হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে ৩০ হাজার ইয়াবার একটি চালান ঢাকায় পাঠানো হয় কুরিয়ারের মাধ্যমে। চালানটি রিসিভ করে নিয়ে আসা হয় পান্থপথের একটি হোটেলে। এরপর সেগুলো ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকায় একই পরিবারের চারজনসহ ছয় জনকে আটক করে র‌্যাব-২। পরে তাদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ছয় হাজার ৬০০ টাকা ও আট হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার (স্পেশাল কোম্পানি) মেজর মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি বলেন,‘আমাদের কাছে চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে ইয়াবার বড় চালান আসার তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কুরিয়ার সার্ভিসের এখানে (অফিসে) অবস্থান নেই। কিন্তু দু’টি চালান নিয়ে ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে কৌশলে কেটে পড়ে। পরে আমরা জানতে পারি, তারা এই চালান নিয়ে পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অবস্থান করছে। হোটেলে অভিযান চালিয়ে একটি কক্ষ থেকে পাঁচ জন ও হোটেল ম্যানেজারকে আটক করি। এসময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা বিক্রির অ্যাডভান্স দুই লাখ ছয় হাজার ৬০০ টাকা উদ্ধার করি। এরপর কুরিয়ার থেকে ইয়াবার আরেকটি চালান তাদের মাধ্যমে ডেলিভারি গ্রহণ করিয়ে ৮ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুরিয়ারে কাপড়ের আড়ালে ইয়াবার চালানটি পাঠানো হয়। ওপরে কাপড় আর ভেতরে দিয়ে দেয় ইয়াবা। ফলে সাধারণ চোখে বোঝার উপায় থাকে না।’
গত ২০ সেপ্টেম্বর ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। তারা পণ্য পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা চোরাচালান বহন করছিল।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা অ্যাম্বুলেন্সে করেও চোরাচালান নিয়ে আসে। র‌্যাব ও পুলিশ এ ধরনের বেশ কয়েকটি চালান আটক করেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে রিসার্চ, ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের (আরটিএম) ড্রাইভার বাদশা মিয়াকে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে উখিয়া থানা পুলিশ। তিনি অ্যাম্বুলেন্সে করে ইয়াবার চালান পাচার করছিলেন।
ওষুধের বোতলে করে ইয়াবা চালান বহন করা হয় বলে জানান এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে। আমরাও সেগুলো ধরার জন্য ছুটে বেড়াই।’
তিনি জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়। সে কার্টনের মধ্যে প্লাস্টিকের বোতলে ইয়াবা ঢুকিয়ে বহন করছিল। নিরাপদে বহন করার জন্য এ পথ অবলম্বন করে সে।
বাহকরা সম্প্রতি পেটে করেও ইয়াবা বহন করছে বলে জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা। তিনি বলেন, পেটে করে ইয়াবা পাচার নতুন কৌশল। আগে খুব কম হলেও বর্তমানে তা বেড়েছে। পেটে করে বাহকরা সর্বোচ্চ আড়াই হাজার পর্যন্ত ইয়াবা বহন করছে।

Check Also

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আ.লীগ নেত্রী খুনের ঘটনায় মামলা

অনলাইন ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দুর্বৃত্তদের হামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না আক্তার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *