Friday , November 24 2017
শিরোনাম
হোম / জাতীয় / হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা জাতীয় সংসদে

হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা জাতীয় সংসদে

অনলাইন ডেস্ক :  ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে হঠাৎ করে ‘হাজার গুণ’ হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে জনগণ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এ সরকারকে আর ভোট দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর বিরোধিতা করে জাতীয় সংসদে তিনি বলেছেন, হঠাৎ এবারে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়িয়ে সমস্ত ঢাকা শহরকে অশান্ত করে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। অথচ সামনে নির্বাচন, এখন ট্যাক্স বাড়ান হলো কেন? জনগণ আর আপনাদের ভোট দেবে না।’

সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করছিলেন।

ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘এতদিন কেন তাদের (সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ) মনে পড়লো না, যখন ভোট এগিয়ে আসছে তখন তাদের মনে পড়লো হাজার গুণ ট্যাক্স বাড়াতে হবে। মগের মুল্লুক আর কি! এ বিষয়ে মামলা হবে। যখন আমরা ভোটে যাব তখন এটা ফেস করতে হবে। এখানে খাদ্যমন্ত্রীসহ অনেকেই রয়েছেন, যারা ঢাকা শহরের এমপি, তারা সরকারি দল করেন বলে এখন কিছু বলছেন না। কিন্তু যখন নির্বাচনের জন্য ভোট চাইতে যাবেন তখন কে সরকারি দলের আর কে অন্য দলের তা কিন্তু ভোটাররা দেখবে না। তারা বলবে, আপনারা সরকারের মন্ত্রী আপনাদের নির্দেশে ট্যাক্স বাড়িয়েছে আপনাদের ভোট দেব না। আমাকেও তারা এখনই এসব কথা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ধানমন্ডি এলাকায় ছয় থানার নাগরিকরা বসেছিলেন, তারা বলেছেন ট্যাক্স যদি বাস্তবসম্মত না হয়, যদি সিটি কর্পোরেশন কোনো নাগরিক সুবিধা না পাওয়া যায় তাহলে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা কোনো ট্যাক্স দেবেন না। তারা বলছেন, আপনারা ভোট নেবেন না ট্যাক্স নেবেন। আজ তো আমাদের কোনো কথা আপনারা শুনছেন না, কিন্তু ভোটের বেলায় তো ঠিক আমাদের কাছে আসতে হবে। তখন কিন্তু এ বিষয়টি ফেস করতে হবে। কোনো কোনো এলাকায় প্রায় হাজার পার্সেন্ট ট্যাক্স বাড়ান হয়েছে, যা কোনোভাবেই বাস্তব সম্মত নয়। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার একজন বাড়ির মালিকের ট্যাক্স ছিল ৯ লাখ তা বেড়ে হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। যা বাস্তবসম্মত নয়। এটা কি সম্ভব?’

স্পিকারের উদ্দেশ তিনি বলেন, ‘আমাদের যে নাগরিক সুবিধা তা কোনোভাবেই নেই। আপনি যদি মিরপুর বোর্ডের আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের পাশ দিয়ে যান দেখবেন রাস্তার অর্ধেক জুড়ে গার্বেজ কনটেইনার রেখে দিয়েছে। ওই এলাকার সব অাবর্জনা ও আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের সমস্ত ময়লা এখানে ফেলে। ছাত্র-ছত্রীরা গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, জনগণ অনেক দূর থেকে নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। রাস্তাটা অর্ধেক হয়ে গেছে। গাড়ি এসে আটকে যায়। সাত সমজিদের সামনে তিনটে ময়লার কন্টেনার। ময়লায় চলাচল করা দায়। রাস্তার মধ্যে ময়লার কনটেনার পড়ে আছে।’

কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলে হাঁটু পানি জমে যায় চলাচল করা দায়। বাড়ির নিচ তলায় পানি উঠে যায়। নৌকা করে চলাচল করতে হয়। মানুষের সম্ভ্রম বাঁচানো দায় হয়ে ওঠে। তা হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বলতে নেই, ভেঙে পড়েছে। সেখানে কোনো নাগরিক সুবিধা না দিয়ে ট্যাক্স কেন বাড়ান হবে। পৃথিবীর কোনো দেশে এমনটি নেই। মশা, মাছি ভর্তি, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানা রোগ হচ্ছে। পুরনো শহরে যে দুরবস্থায় মানুষ থাকেন তা বলার মতো নয়, যা আমাদের মোকাবেলা করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন যদি ট্যাক্স ধরেন তো তাদের ধরেন, যারা অনেক বেশি নাগরিক সুবিধা পায়। তাদের ট্যাক্স ৫ লাখ-১০ লাখ গুণ বাড়ান আপত্তি নেই। গুলশান-বারিধারায় ১০ লাখ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। তারা সবার চেয়ে বেশি নাগরিক সুবিধা ভোগ করে। তাদের ট্যাক্স বসান। যারা ওয়াসার অর্ধেক পানি গাড়ি ধুয়ে ও বাগানে পানি দিয়ে নষ্ট করে। তাদের বেশি ট্যাক্স বসান।’

ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘আগে ঢাকার বাড়িওয়ালা বাড়িভাড়া দিয়ে আয় করতো, খেত, আজ আর সে সুবিধা তারা পাচ্ছেন না। কেননা, এখন অনেক বেশি বাড়ি হয়ে গেছে। তাই অনেক বেশি ট্যাক্স বাড়ানোর ফলে তারা অসুবিধায় পড়েছেন। এটা অগ্রহণযোগ্য।’

Check Also

শিশু হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে বাংলাদেশেই

অনলাইন ডেস্ক : ঝিনাইদহ থেকে ২ বছরের মেয়ে লামিসাকে নিয়ে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *