Friday , November 24 2017
শিরোনাম
হোম / রাজনীতি / ফুটপাতে প্রসব, এক মাসেও সাজা হয়নি কারও

ফুটপাতে প্রসব, এক মাসেও সাজা হয়নি কারও

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকার তিনটি হাসপাতালে ঘুরে রাস্তায় পেয়ে সন্তান জন্ম এবং পরে শিশুটির পর মৃত্যুর ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এক মাসেও। ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর তিনটি হাসপাতালই গঠন করে তদন্ত কমিটি। আশ্বাস নেয়া হয় ব্যবস্থা নেয়ার। কিন্তু এই ঘটনায় আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছে যুক্তি দেখিয়ে কাউকে কিছু বলেনি হাসপাতাল তিনটি।

যে তিনটি হাসপাতল পারভীনের ঘুরে পারভীন ফুটপাতে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন, তার মধ্যে দুটি হাসপাতালে গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা পড়েছে। আর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তদন্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নিজেই।

চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর ভোরে গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজারের বসে কাঁদছিলেন পারভীন বেগম।  ওই সময়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সোহেল নামের এক যুবক। পারভীন তাকে ডেকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আকুতি জানান। পরে পারভীনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  নিয়ে যান সোহেল। সেখানে প্রথমে পারভীনের স্বাভাবিক প্রসবের কথা বলা হয়। পরে চিকিৎসকরা জানান, সিজারের প্রয়োজন পড়বে। কিন্তু ওষুধ-পথ্য কিনতে দেড় হাজারের মতো টাকা দিতে না পারায় সে অস্ত্রোপচার আর হয়নি।

সংকটাপন্ন অবস্থায় পারভীনকে পাঠান হয় মিটফোর্ড হাসপাতালে। সেখানেও একই ঘটনা ঘটে। পরে সোহেল ভোরের দিকে পারভীনকে নিয়ে যান আজিমপুর ম্যাটারনিটিতে। কিন্তু সেখানেও পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি। প্রসব বেদনায় কাতরান মায়ের টাকা না থাকায় টানাহেঁচড়া করে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন হাসপাতাল কর্মীরা। কিছুক্ষণ পরই ওই ম্যাটারনিটির গেটের সামনে সড়কের ওপর পড়ে যান পারভীন। সেখানেই এক ছেলে সন্তান প্রসব করেন তিনি। পথচারী ও আশপাশের কয়েকজন নারী এ সময় এগিয়ে এসে পারভীনকে শাড়ি পেঁচিয়ে আড়াল করে প্রসবে সাহায্য করেন।

সোহেল জানান, নবজাতক জন্ম নেওয়ার আনুমানিক মিনিট দুয়েক পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই দৃশ্য দেখে এবং পারভীনের কান্না শুনে এলাকাবাসী ও পথচারীরা এগিয়ে এসে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ আসে। এক পর্যায়ে হাসপাতালের লোকজন এসে পারভীনকে ট্রলিতে তুলে ভেতরে নিয়ে প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

এ ঘটনায় প্রত্রিকায় লেখালেখির পর সমালোচনার মুখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পারভীনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা করায়। আবার গত ১৯ অক্টোবর  স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ।এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না এবং ওই মাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

পারভীনের প্রসবের ব্যবস্থা না করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্লহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) পরিচালক ব্রায়ান হালদার বলেন, ‘এ ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। ওই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়েছে। তবে কাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে কাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমার তেমন কিছুই জানা নেই।’

‘যেহেতু এ বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করেছেন, তাই এটা আদালতই মীমাংসা করবে’-বলেন মিটফোর্ড পরিচালক।

পারভীনের চিকিসার ব্যপারে গাফিলতিতে কারা জড়িত জানতে গঠন করা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গঠন করা তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিবেদনে কাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে চায় না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানতে চাইলে হাসপাতালের সহকারী  পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তবে যেহেতু এটা আদালতের বিষয় তাই এ ব্যাপারে আমাদের কোন কথা বলা উচিৎ নয়।’

আজিমপুর ম্যাটারনিটির তত্ত্বাবধায়ক ইশরাত জাহান বলেন, ‘আমরা পরিকল্পা অধিদপ্তরে আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। সেখানে কে দায়ী আর কে অভিযুক্ত সবই বলা হয়েছে। যেহেতু এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রুল রয়েছে তাই আমাদের এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ’

পারভীন এখন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যাচ্ছে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পারভীনের বাবার বাড়ি যশোরের শার্শা থানায়। তিনি নেত্রকোণায় বিয়ে করেছিলেন। একটি মামলায় তার স্বামী এখন কারাগারে।

Check Also

বিএনপির ভবিষ্যৎ ভালো নয়: কাদের

অনলাইন ডেস্ক : ‘বিএনপি আবার আন্দোলনে যাচ্ছে’ এমন ইঙ্গিত প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *